ইয়ন মরগ্যান বদলে দিয়ে গেছেন ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেটকে। বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। ৫০ ওভারের খেলায় সবচেয়ে বেশি পাঁচটি চার শতাধিক রানের ইনিংস তাদের। সর্বোচ্চ ৪৯৮ রানও করেছেন তারা।
এখন প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ছায়ায় দুঃসাহসিক অধিনায়কত্বে বেন স্টোকস টেস্ট ক্রিকেটের চেহারা পাল্টানোর যে উচ্চাকাক্সক্ষার কথা বলেছিলেন, তা মাঠে ফলতে শুরু করেছে। নিউজিল্যান্ডকে ২৭৭, ২৯৬, ২৯৯ রান তাড়া করে হারানোর পর রেকর্ড ৩৭৮ রান তাড়া করে হারানোর কীর্তি গড়েছেন তারা এজবাস্টনে। আর তাতে গতকাল ভারতকে ৭ উইকেটে হারিয়ে করোনায় গত বছরের থেমে থাকা পাঁচ ম্যাচ সিরিজ ২-২-এ ড্র করতে পেরেছেন তারা।
টেস্টে অষ্টম সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়া ইংল্যান্ড এর আগে সবচেয়ে বেশি ৩৫৯ রান তাড়া করে জিতেছিল ২০১৯-এর অ্যাশেজে। অন্যদিকে টেস্টে এর আগে এত বেশি রানের পুঁজি নিয়ে কখনো হারেনি ভারত। ১৯৭৭ সালে পার্থে ভারতের বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৩৯ রান করে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।
ইংল্যান্ড জয়টা পেয়েছে জো রুট ও জনি বেয়ারস্টোর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে। দুজনেই পঞ্চম দিন শুরু করেন সত্তরের ঘরে থেকে। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১১৯ রান, ২৫ ওভারের মধ্যেই তুলে নেন রুট-বেয়ারস্টো জুটি। রুট সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ১৪২ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ১৭৩ বলের ইনিংসে ছিল ১৯ চার ও ১ ছক্কা। বেয়ারস্টো অপরাজিত ১১৪ রানে। তার ১৪৫ বলের ইনিংসে ছিল ১৫ চার ও ১ ছক্কা। রুট ও বেয়ারস্টো মিলে চতুর্থ উইকেটে ৩১৬ বলে ২৬৯ রানের জুটি গড়েছেন। টার্গেটের শেষ ৪৬ রান তোলেন তারা মাত্র ৩৪ বলে। ১৯৬৮তে কেন ব্যারিংটনের গড়া কীর্তির ৫৪ বছর পর টেস্টে পরপর চার ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেন বেয়ারস্টো। অন্যদিকে ভারতের বিপক্ষে এই সিরিজেই চার সেঞ্চুরি করা রুট গত দেড় বছরে করলেন ১১ সেঞ্চুরি, যাতে তার মোট সেঞ্চুরি হলো ২৮টি। এখনো খেলছেন এমন ব্যাটসম্যানের মধ্যে সেঞ্চুরিতে তিনিই এগিয়ে। পেছনে পড়েছেন স্টিভ স্মিথ, বিরাট কোহলি ও কেন উইলিয়ামসন।
রুট ২০২১ সাল থেকে সেঞ্চুরি করেছেন ১১টি। টেস্টে তার মোট সেঞ্চুরি ২৮টি। ভারতের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজে রুট সেঞ্চুরি করেছেন চারটি। সিরিজে চার সেঞ্চুরিতে ৯ ইনিংসে রান ৭৩৭। তাতে সিরিজসেরাও হয়েছেন রুট।
ম্যাচ জয়ের পর স্টোকস বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট যেভাবে খেলা হয়েছে, বিশেষ করে ইংল্যান্ড যেভাবে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছে, সে ধরনটা আমরা নতুন করে লেখার চেষ্টা করছি। আমরা টেস্ট ক্রিকেটকে নতুন জীবন দিতে চাই... আমরা টেস্ট ক্রিকেটে নতুন সমর্থক নিয়ে আসছি। আমরা একটা চিহ্ন রেখে যেতে চাই।’ দুঃসাহসকি স্টোকস এও বলেছেন, ‘আমি তো চেয়েছিলাম ভারত ৪৫০ রান করুক। দেখতে চেয়েছিলাম, তখন আমরা কী করতাম।’ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতি ওভারে ৫.৯৮, ৫.৪৫ এবং ভারতের বিপক্ষে এজবাস্টনে ৪.৯৩ গড়ে রান তোলা এই ইংল্যান্ডের পক্ষে তাও সম্ভব হতে পারে।