লাইন খরচের নামে চাঁদাবাজি

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ‘লাইনম্যান খরচের’ নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে অকটেনচালিত অটোরিকশা চালক সমিতির আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর ও তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে। আসছে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে এই চাঁদাবাজ চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা জানান, চাঁদাবাজ চক্রের হোতা মো. জাহাঙ্গীরের সহযোগীরা হলেন সাইফুল, জাহাঙ্গীর (২) ও শাকিল।

ভুক্তভোগী একাধিক অটোরিকশা চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে আসা যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে গুপ্তছড়া ঘাট থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিটি অটোরিকশা চালককে প্রতিবার দিতে হয় ১০ টাকা চাঁদা। সন্দ্বীপের প্রধান এ ঘাট দিয়ে স্টিমার, স্পিডবোট ও ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকায় প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেন। দুই ঈদে যাত্রীসংখ্যা বেড়ে হয় দ্বিগুণের বেশি। এসব যাত্রী পরিবহনে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ অটোরিকশা ঘাটে আসা-যাওয়া করে। লাইনম্যান খরচের নামে চাঁদা থেকে চাঁদাবাজ চক্রের মাসিক আয় প্রায় দেড় লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী অটোরিকশা চালক মো. সোহেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চাঁদাবাজরা অনর্থক আমাদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে নেয়। দিনে পাঁচবার ঘাটে গাড়ি ঢোকালে পাঁচবারই টাকা নেয়। সিএনজি চালক সমিতির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীরের থানার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। সাধারণ ড্রাইভাররা অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে থানা পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার ভয় দেখায়।’

লাইনম্যান খরচের নামে চাঁদা আদায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ আসা যাত্রী কাজী আলাউদ্দীন বলেন, ‘যতবারই সন্দ্বীপ আসি, দেখি ড্রাইভারদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। অন্যায়টা এখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। আগামীতে চাঁদার পরিমাণ আরও বাড়বে। কারণ দেখেও সবাই না দেখার ভান করে আছে। দিনশেষে চাঁদার টাকাটা ভাড়ার সঙ্গে যোগ করে দেয় ড্রাইভাররা। ওদেরও কিছু করার নেই।’

গত বুধবার সরেজমিনে গুপ্তছড়া ঘাটে দেখা যায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা যাত্রীদের অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে লাঠি হাতে ১০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে সাইফুল। এ সময় চক্রের অন্য তিন সদস্যকেও ঘাটে চাঁদা আদায়ে সক্রিয় দেখা যায়। কীসের জন্য টাকা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে এই প্রতিবেদককে সাইফুল বলেন, ‘সিএনজি (অটোরিকশা) চালক সমিতি ১০ টাকা করে নিতে বলেছে, এজন্য নিচ্ছি। বাকিটা থানাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করেন।’

গুপ্তছড়া ঘাটে চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করে অকটেনচালিত অটোরিকশা চালক সমিতির আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘মোটর লাইনে লাইনম্যান সারা বাংলাদেশের সব জায়গায় আছে। সে হিসেবে আমরাও লাইনম্যান নিয়োগ দিয়েছি। সাইফুল, জাহাঙ্গীর (২) ও শাকিল ওদের বেতন হিসেবে চাঁদার টাকাটা দৈনিক ভাগ করে নেয়। আমি কোনো ভাগ নিই না।’

চাঁদাবাজির দায় ঘাট কর্র্তৃপক্ষ ও প্রশাসন এড়াতে পারে না উল্লেখ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’র সমন্বয়কারী খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘যারা চাঁদা আদায় করছে তাদের কোনো বৈধতা নেই। আইনসম্মত কোনো ভিত্তি নেই। যাত্রী ও চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

এদিকে গত ১০ এপ্রিল প্রশাসন ও সাধারণ যাত্রীদের অনুপস্থিতিতে একতরফা অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া নির্ধারণ, সিরিয়াল পদ্ধতি ও লাইনম্যান নিয়োগ দেয় সিএনজি চালক সমিতি। এ নিয়ে গত ১৮ এপ্রিল দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর সিরিয়াল পদ্ধতি বন্ধ ও ভাড়া কমিয়ে উপজেলা প্রশাসন নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও বন্ধ হয়নি লাইনম্যান খরচের নামে চাঁদাবাজি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট খীসা বলেন, ‘যে লাইনম্যান আছে ওদের বেতন হিসেবে প্রতি সিএনজি থেকে ১০ টাকা করে নিচ্ছে। ওদের বেতন হিসেবে ওরা এটা অটোরিকশা থেকে তুলবে।’