দ্বিগুণের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী-স্ত্রী হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা

মাদারীপুরের শিবচরে ‘এ্যামাজন ক্রাউন ইম্পেরিয়াল’ নামে অনলাইন মার্কেট প্লেসে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে শিবচর থানা পুলিশ।

সোমবার (১১ জুলাই) দুপুরে তাদের আটক করা হয়। পরে আরও ৫ জনের নাম উল্লেখ করে শিবচর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

আটকেরা হলেন উপজেলার দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের ঝাউকান্দি গ্রামের আব্দুস সালাম মাতবরের ছেলে কামাল হোসেন (৪২)  ও তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (৪০)। শিবচর থানার উপপরিদর্শক সিদ্ধার্থ ব্রত কুণ্ডু সোমবার রাত ১০টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শিবচর থানা ও ভুক্তভোগী সুত্র জানায়, সম্প্রতি এ্যামাজন ক্রাউন ইম্পেরিয়ালে টাকা বিনিয়োগ করলে ২১ দিনে দ্বিগুণ আয় হয় বলে বিভিন্ন মানুষকে প্রলোভন দেখায় একটি চক্র। এই প্রলোভনে পড়ে শিবচরের প্রায় ১২ হাজার মানুষ চক্রটির মাধ্যমে ওই সাইটে টাকা বিনিয়োগ করে। প্রথমে বেশ কয়েকজনকে ২১ দিনে দ্বিগুণ টাকা ফেরতও দেয় চক্রের ‘মূল হোতা’ কামাল হোসেন। বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা ও বিনিয়োগের পরিমাণ কয়েক কোটি হয়ে যাওয়ার পর গত ৭ জুলাই থেকে হঠাৎ সাইটটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সন্দেহ হলে কয়েকজন বিনিয়োগকারী সোমবার কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী ফাহিমা আক্তারকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে শিবচর থানার উপপরিদর্শক  সিদ্ধার্থ ব্রত কুণ্ডুসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল থেকে ওই দম্পতিকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় জাকির হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে আটক ২ জনসহ আরও ৫ জনের নাম উল্লেখ করে শিবচর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

তবে সাহিন বিন আনিছ নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি প্রায় বিশ দিন আগে একজনের কথায় ৩০ হাজার টাকা জমা দেই। পরে আমার লাভ হয় প্রায় আরও ৪০ হাজার। আমার মোট ৭০ হাজার লস হয়েছে। আমি আরও ৭/৮ জনকে আমার এখানে যোগদান করাই। শেষের দিকে যারা যোগদান করছে সবারই লস হয়েছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ব্রত কুণ্ডু বলেন, এই চক্রটিসহ যারা অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে প্রতারণা করছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এ্যামাজন ক্রাউন ইম্পেরিয়ালের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে আটকে দম্পতিকে  মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হবে। বাকি আসামিদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।