গোতাবায়া রাজাপাক্ষের পদত্যাগের পর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে চান দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি এ কথা জানিয়েছেন। তার দল সামাজি জন বালাবেগায়ার (এসজেবি) পক্ষ থেকে মিত্রদের সমর্থন আদায় নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন তিনি এ ইচ্ছার কথা জানালেন।
সাজিথ প্রেমাদাসা বলেন, গোতাবায়া রাজাপাক্ষে পদত্যাগ করলে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে চান।
এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করেছে সাজিথ প্রেমাদাসার দল এসজেবি। এ আলোচনার পরই সাজিথ প্রেমাদাসা প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে তার আগ্রহের কথা জানান।
তিনি ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন। এবার তার জয়ের জন্য শাসক জোটের এমপিদের সমর্থনের প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে।
অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি এখনো অগ্নিগর্ভ। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাক্ষে কার্যত লাপাত্তা। প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের গদিও নড়বড়ে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক একটা সরকারের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন লঙ্কানরা।
ইতোমধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখা ঘোষণা করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ জুলাই পার্লামেন্টের অধিবেশন ডাকা হবে। আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে ২০ জুলাই। সোমবার (১১ জুলাই) পার্লামেন্টের স্পিকার এমনটাই জানান।
জানা গেছে, বুধবারই (১৩ জুলাই) পদত্যাগ করবেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া। এরপরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। অনেকেরই প্রশ্ন, গোতাবায়ার পর কে হচ্ছেন শ্রীলঙ্কার নতুন প্রেসিডেন্ট। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দ্বীপরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট পদে বসতে পারেন দেশটির বর্তমান পার্লামেন্ট স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেওয়ার্দেনা।
বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন স্পিকার মাহিন্দা। তিনি বলেন, আগামী ১৯ জুলাই নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য মনোনয়ন দেয়া হবে। আর পরদিন অনুষ্ঠিত হবে ভোট।
শনিবার (৯ জুলাই) জনরোষের মুখে প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে পালিয়ে যান গোতাবায়া। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে–এ আশঙ্কায় নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে তাকে সরিয়ে নেয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর দেশটির সংসদের স্পিকার ঘোষণা দেন, ক্ষমতা শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরে প্রেসিডেন্ট রাজাপাক্ষে আগামী বুধবার পদত্যাগ করবেন।
সোমবার (১১ জুলাই) দেশটির এক শীর্ষ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, প্রেসিডেন্টের বাসভবন থেকে গোতাবায়াকে প্রথমে নৌবাহিনীর একটি ভবনে নেয়া হয়। এরপর সোমবার তাকে কাতুনায়েকে বিমানঘাঁটিতে নেয়া হয়। এই বিমানঘাঁটির সঙ্গে দেশটির প্রধান বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সীমানা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ঘোষিত সময়েই পদত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া। আগামী বুধবার (১৩ জুলাই) দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে।
এদিকে একটি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দেশটির বিরোধী দলগুলো। শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক দলগুলো রবিবার বৈঠকে বসে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ১৩ জুলাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া পদত্যাগ করার পর সব দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে। একই সঙ্গে আগামী বছরের মার্চে সংসদীয় নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।