শ্রীলঙ্কার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বললেন, শ্রীলঙ্কার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি বর্তমানে বাংলাদেশেও বিদ্যমান। এই যখন দেশের অবস্থা তখন বাংলাদেশের জনগণ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে কিনা সেই আতঙ্ক থেকে বিরোধী দল নিধনে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।

এ সময় যশোর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি বদিউজ্জামান ধ্বনি ও কুড়িগ্রামের কালীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো, শফিকুল ইসলামকে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান তিনি।

বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, বাংলাদেশে প্রকৃত আইনের হাতের চেয়েও অবৈধ ক্ষমতার হাত অনেক লম্বা। ছাত্রলীগ, যুবলীগ এক সর্বনাশা- সময় সৃষ্টি করেছে। বর্তমান এই ঘোর দুর্দিনে জনগণের জান-মাল এখন ভয়ানক বিপন্ন। তাদের অব্যাহত গুম, খুন, নারী শিশু নির্যাতনে সারাদেশে এক বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারের নির্দেশেই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হত্যা ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

বৃহস্পতিবার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব কথা বলেন রিজভী।

আরও বলেন, দেশব্যাপী সরকার হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে। দেশে বেকারত্ব, দারিদ্র, অনাহার, জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য থেকে দৃষ্টি সরাতেই এই সকল হত্যাকাণ্ড। এর ওপর দেশে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে, তথাকথিত উন্নয়নের মাধ্যমে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে, দেশ থেকে লাখ-লাখ কোটি টাকা পাচার করে অর্থনীতিকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ তলানিতে ঠেকেছে- যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন, সমাজ থেকে ন্যায় বিচার উচ্ছেদ করা হয়েছে, দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসনকে তছনছ করে দেয়া হয়েছে, বিচার বিভাগ এখন সরকারের অবৈধ সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।

‘আওয়ামী মরণঘাতী ভাইরাস গোটা রাষ্ট্র ও সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে’ উল্লেখ করে বলেন, নানা কালাকানুনের মাধ্যমে কেড়ে নেয়া হয়েছে মানুষের বাকস্বাধীনতা, মানুষের ভোটের অধিকার নেই, মুক্তভাবে কথা বলার অধিকার নেই, দেশের সকল সেক্টরে এখন নৈরাজ্য চলছে।

রিজভী বলেন, মূলত পায়ের নিচ থেকে শেখ হাসিনা সরকারের মাটি সরে যাওয়া টের পেয়ে আওয়ামী সরকার দেশে এখন মৃত্যুদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বজন পোষণ এবং বিলাসী জীবনযাপন এবং বিপুল সম্পত্তি অর্জন সংকটাপন্ন হবে ভেবেই ক্ষমতার শেষ সময়ে এসে তারা এখন মরণ কামড় দিচ্ছে। ক্ষমতা হারানোর ভয়ে তারা উন্মাদ হয়ে গেছে।

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, গত ১৪ বছরে প্রায় সারাদেশে হাজার-হাজার  নেতা-কর্মী হত্যা ও নির্যাতনের শিকার। গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন বেশ কয়েক হাজার নেতা-কর্মী। দেড় লক্ষাধিক মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীকে। বিএনপি’র মৃত নেতা, পবিত্র হজ পালনরত নেতা, পক্ষাঘাতগ্রস্ত নেতার নামেও তারা মামলা দিয়ে জনগণের কাছে হাসির পাত্র হয়েছে।

আরও বলেন, এই সরকারের আমলে ৪৫ জন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সাগর-রুনির হত্যার বিচার আজও হয়নি। স্বাধীন মতপ্রকাশের কারণেই বেছে বেছে সাংবাদিকদের হত্যা করা হয়েছে এবং বন্দি করা হচ্ছে।