১৯৮০ এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ এবং রাজনৈতিক বন্দীদের হত্যার অপরাধে বৃহস্পতিবার এক সাবেক ইরানি কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে সুইডেনের স্টকহোমের জেলা আদালত ।
সাবেক ওই কর্মকর্তার নাম হামিদ নুরি, তার বর্তমান বয়স ৬১ বছর। ২০১৯ সালে স্টকহোম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন নুরি।
হত্যাকাণ্ডের সময় নুরি ইরানের কারাজের গোহারদাশত কারাগারে ডেপুটি প্রসিকিউটরের সহকারী ছিলেন। তখন তার বয়স ছিল ২৭ বছর। প্রসিকিউটরদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরা ইরানের একটি বিরোধী দল মুজাহেদিন-ই-খালকের অনুগত ছিল।
সুইডিশ আদালত বলছে, তারা বিশ্বাস করে যে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতের কারণে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন’।
রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আদালতের বাইরে সমবেত ভুক্তভোগীদের পরিবার উল্লাস প্রকাশ করেন। বিচার চলাকালে তাদের অনেকে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এ দিকে এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেছেন, মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে এই রায় ‘রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রসূত এবং এর কোনো আইনি বৈধতা নেই।’
পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, এই রায় ইরান ও সুইডেনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক সুবিধা পেতে বিদেশি নাগরিকদের আটকের জন্য ইরানের নিন্দা করা হয়েছে।
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন নুরী। মুক্তি পেলে তাকে সুইডেন থেকে বহিষ্কার করা হবে।