মিডিয়ার চাপে টি২০-তে দুর্বল বাংলাদেশ!

ছোট ফরম্যাটে ভালো না করার কারণ নাকি মিডিয়া। বাংলাদেশ দলের কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর মন্তব্য এমনই। মিডিয়ায় উঠে আসা সংবাদ ক্রিকেটারদের চাপ বাড়ায় বলে মনে করেন ডমিঙ্গো। ক্রিকেটারদের মন্তব্য তারা পাওয়ার হিটিংয়ে পিছিয়ে। তারা মেনেও নিয়েছেন এই ফরম্যাটে অন্তত উইন্ডিজ ক্রিকেটারদের মতো পারফরম করতে পারছেন না। কিন্তু ডমিঙ্গোর কথায় দোষ মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের। তাই টি-টোয়েন্টিতে বারবার চাপে পড়ছে বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকান এই কোচের সুসম্পর্ক নেই। গত বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় তা আরও নিচে নামে। ক্ষেত্র বিশেষে সংবাদিকদের এড়িয়েও চলেন ডমিঙ্গো। কিন্তু জবাব দেওয়ার মতো পারফরম তার অধীনে করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহরা। গত বিশ্বকাপের আগে নিজেদের মতো পিচ বানিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় ডমিঙ্গোর সেরা সাফল্য। যার ধারাবাহিকতা, আত্মবিশ্বাস কোনোটাই বিশ্বকাপে ছিল না। ২০১৯ থেকে ডমিঙ্গোর অধীনে বাংলাদেশ ছোট ফরম্যাটে ধারাবাহিক হতে পারেনি কখনই। তবুও ডমিঙ্গোর বিশ্বাস সংবাদ মাধ্যমের কারণেই বাংলাদেশ ব্যর্থ। উইন্ডিজে পরশু এই কোচ বলেন, ‘আমাদের চাপ সামলানো গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো একটি ক্রিকেটপ্রেমী দেশের ক্রিকেটাররা অনেক চাপ অনুভব করে। মানুষ কী বলছে, মিডিয়া কী বলছে এসব চাপ সৃষ্টি করে। তাই মনোযোগ ধরে রাখতে হবে, শান্ত থাকতে হবে, প্রতি বল নিয়ে ভাবতে হবে।’

বাংলাদেশ দল ওয়ানডে ফরম্যাটে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটলেও টি-টোয়েন্টিতে ঠিক যেন তার উল্টোটা। সাদা বলের দুই ফরম্যাটের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন অনেক। সম্প্রতি ক্রিকেটাররা ছোট ফরম্যাটে নিজেদের অপারগতা স্বীকার করেছেন অকপটে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষে লিটন দাশ বলছিলেন উইন্ডিজ ক্রিকেটারদের মতো বড় ছক্কা মারার সামর্থ্য বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারেরই নেই। ডমিঙ্গোও মানলেন এটা এবং এ নিয়ে কাজ করার পুরনো বুলি আওড়ালেন, ‘ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুটোই সীমিত ওভারের হলেও এর মধ্যে অনেক তফাৎ আছে। সঠিক কারণ বলা কঠিন। টি-টোয়েন্টিতে বাউন্ডারি হিটিং বড় একটা ব্যাপার। আমরা জানি আমাদের উন্নতির কিছু জায়গা আছে। অনুশীলনে এসব নিয়ে কাজ করছি।’

এবারের উইন্ডিজ সফরে টি-টোয়েন্টিতে হেরেছে বাংলাদেশ। পরে ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও ডমিঙ্গো জানান ওই সাফল্য পাশে রেখে টি-টোয়েন্টি নিয়েই ভাবছেন তারা। চলতি বছর বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের ধ্যানজ্ঞান এখন কুড়ি ওভারের সংস্করণ নিয়ে। সামনে জিম্বাবুয়েতে তিন টি-টোয়েন্টি হয়তো ভালো করবে বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তানকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ মাহমুদউল্লাহদের আসল পরীক্ষা হবে। বিশ্বকাপ সামনে রেখে এসব চিন্তায় রাখছেন ডমিঙ্গো, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ানডে বিশ্বকাপ এখনো ১৫ মাস দূরে। এখনো অনেক সময় আছে, অনেক ম্যাচ খেলা হবে। এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমাদের আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে হবে। বাংলাদেশ কখনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ জেতেনি (মূল পর্বে)। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেটই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে ম্যাচ জিততেও আমরা মরিয়া।’

ডমিঙ্গো মরিয়া হয়ে উঠলেও এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের উন্নতিটা দৃশ্যমান নয়। এক বোলিং ছাড়া বাকি দুই বিভাগেই হতাশ হতে হয় বারবার। বিশ্বকাপে ভালো করতে চাইলে ওই দিকগুলোয় উন্নতি করতে হবে। সঙ্গে চাপের জন্য অন্য বিষয়কে দোষ দেওয়াও বন্ধ করতে হবে।