বিচ্ছিন্ন বার্জে ১৩ হাজার টন পাথর

ভোলার মনপুরায় চরে আটকে যাওয়া ‘আল কুবতান’ নামে বার্জটিতে রয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বাস্তবায়নাধীন এস এস পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য আনা ১৩ হাজার মেট্রিক টন বোল্ডার পাথর ও অন্যান্য সরঞ্জাম। বহিঃসমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে বৃহস্পতিবার টাগবোট এ এম অ্যাকুয়ার্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল বার্জটি। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট রিলায়েন্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. রাশেদ গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ভারতের কাকিনাদা বন্দর থেকে ১৩ হাজার মেট্রিক টন বোল্ডার পাথর, পাথর ভাঙার মেশিনসহ বেশ কিছু সরঞ্জামসহ ‘আল কুবতান’ বার্জটি চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসছিল এ এম অ্যাকুয়ার্ড নামে টাগবোট। পাথর ও অন্যান্য সরঞ্জাম আনা হচ্ছিল চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মীয়মাণ এস এস পাওয়ার নামে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটি তৈরির জন্য। দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প গ্রুপ এস আলম গ্রুপ ও চীনা প্রতিষ্ঠান সেপকো-এইচটিজি যৌথভাবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে।

রিলায়েন্স শিপিংয়ের চেয়ারম্যান মো. রাশেদ বলেন, ‘বুধবার রাতে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে টাগবোট আর বার্জ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর টাগবোট একদিকে আর বার্জ আরেক দিকে চলে যায়। টাগবোটের জিপিএস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বুধবার রাত থেকে পাইলটের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যে কারণে টাগবোট ও বার্জের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি বৃহস্পতিবার কক্সবাজার কোস্টগার্ডকে জানানো হলেও তারা কোনো হদিস দিতে পারেনি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ভোলার মনপুরার একটি চরে বার্জটি আটকে পড়ার খবর জানতে পারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।’

এদিকে বৈরী আবহাওয়ায় ভাসতে ভাসতে ‘আল কুবতান’ চলে যায় ভোলার মনপুরা উপজেলার চর নিজাম এলাকায়। সেখানে একটি ডুবোচরে জাহাজটি আটকা পড়ে। নাবিকবিহীন বিশাল এ বার্জ দেখে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার বার্জটি সেখানে আটকে পড়ার খবর জানাজানি হলেও শুক্রবার দুপুরের দিকে কোস্টগার্ডের একটি টিম সেখানে পৌঁছে জাহাজটি নিজেদের আয়ত্তে নেয়। তার আগেই স্থানীয় কিছু লোক ওই বার্জ থেকে বেশ কিছু মালামালও লুট করে নিয়ে যায়।

রিলায়েন্স শিপিং অ্যান্ড লজিস্টিকসের চেয়ারম্যান মো. রাশেদ বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার পর পাথরবোঝাই বার্জটি ভোলার মনপুরায় চলে গেলেও টাগবোট ‘এ এম অ্যাকুয়ার্ড’ চলে যায় পায়রাবন্দরের কাছাকাছি। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে আমাদের লোকজন গিয়ে পায়রার কাছে টাগবোটে পৌঁছেছে। সেখান থেকে টাগবোটটি মনপুরায় যাচ্ছে। এদিকে চট্টগ্রাম থেকেও আরেকটি শক্তিশালী টাগবোট পাঠানো হচ্ছে সেখানে।’ তিনি আরও জানান, বার্জটি এখন মনপুরায় সেখানকার কোস্টগার্ডের নিরাপত্তায় রয়েছে। টাগবোট পৌঁছার পর জোয়ারে পানির গভীরতা বৃদ্ধি পেলে সেখান থেকে তা চট্টগ্রাম নিয়ে আসা হবে।

এ বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত কিছু জানাতে পারেননি চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা। জানতে চাইলে বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক শনিবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমরা অবহিত নই। খোঁজখবর নিয়ে জানতে হবে এ রকম কোনো ঘটনা আছে কি না।’