বিশ্বজিৎ হত্যা মামলা

দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামির প্রশ্ন ফাঁসের কারবার!

পুরান ঢাকার দর্জি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত রবিবার গভীর রাতে র‌্যাব-৩-এর একটি দল ঢাকার চামেলীবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল জানিয়েছেন, ঘটনার পরই তিনি ভারতে পালিয়ে যান। দুই বছর পরে দেশে ফিরে ভিন্ন পরিচয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি জড়িয়ে পড়েন প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে। ঘরে বসেই আয় করতে থাকেন লাখ লাখ টাকা।

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধের মধ্যে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয় দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎকে। পরে স্থানীয়রা তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ২৫ জনকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ।

র‌্যাব-৩-এর স্টাফ অফিসার (অপস্ ও ইন্ট শাখা) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রানী দাস জানান, কামরুল ভারতে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের দুই মাস পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তারপর নানা পরিচয়ে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি র‌্যাব জানতে পারে কামরুল শান্তিনগর এলাকায় আত্মগোপন করে আছেন। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার রাতে চামেলীবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া কামরুলের তথ্যের বরাতে বীণা রানী জানান, ভারত থেকে ফিরে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এ সময় তিনি জীবিকার সন্ধানে বিভিন্নজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। প্রথমে তিনি ছদ্মনামে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেন। এরপর তার সঙ্গে প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের পরিচয় হয়। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রি করে ৫০ লাখের বেশি টাকা আয় করেছেন। অবৈধ উপার্জন দিয়ে তিনি কক্সবাজার সদর এলাকায় হোটেল ব্যবসা চালু করেন। লকডাউনে লোকসানের কারণে তার হোটেল ব্যবসা বন্ধ করে দেন।