শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ এবং নারীনেত্রী হেনা দাসের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
হেনা দাস বাংলার নারী জাগরণে যে ক'জন নারী তাদের সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে বিশেষ অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। ব্রিটিশ-বিরোধী-আন্দোলন, ভাষা-আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামসহ বাংলাদেশের সকল ক্রান্তিলগ্নে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশনেরও অন্যতম সদস্য ছিলেন।
১৯২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সিলেট শহরে তার জন্ম। বাবা রায় বাহাদুর সতীশচন্দ্র দত্ত ছিলেন আইনজীবী। মা মনোরমা দত্ত। ১৯৬৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবনেই হেনা দাস স্বদেশি আন্দোলন এবং পরে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন ও সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৪৮-৪৯ সালে হেনা দাস সিলেটের নানকার কৃষক আন্দোলনে যোগ দেন এবং চা বাগানের নারী শ্রমিকদের সমন্বয়ে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলেন।
হেনা দাস ১৯৫৮ সালে ঢাকা আসেন এবং সহকারী শিক্ষক হিসেবে গেন্ডারিয়ায় মনিজা রহমান বালিকা বিদ্যালয়ে যোগ দেন। ১৯৭০ সালে তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে যোগ দেন। তিনি ২০০০ সালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভানেত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে হেনা দাস শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি কলকাতায় গিয়ে সর্বস্তরের শিক্ষকদের নিয়ে ‘উদ্বাস্তু শিক্ষক সমিতি’ গড়ে তোলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
হেনা দাস কেবল একজন সাহসী সংগ্রামী ও সংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বই নন, তিনি একজন কলম সৈনিকও বটে। ইতোমধ্যে হেনা দাসের অর্ধডজন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা কমিশন ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের সদস্য ছিলেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। হেনা দাস মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।