অনন্ত জলিলের ‘ডায়ালগ’ শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে গেছেন অঞ্জনা সুলতানা। আশির দশকে জনপ্রিয়তার সুসময় পার করা এ নায়িকা অনন্তের ‘আন্তর্জাতিক’ শব্দটির বারবার ব্যবহারে ক্ষুব্ধ।
এ বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। জানান, বাংলাদেশি তারকাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক স্তরে সবচেয়ে বেশি চলচ্চিত্র করেছেন তিনি।
ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দিন: দ্য ডে’র নির্মাণে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে দাবি সিনেমাটির প্রযোজক ও নায়ক অনন্ত জলিলের। একইসঙ্গে বলেন, এমন আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা নাকি আগে বাংলাদেশে হয়নি।
ফেসবুকে নিজের বেশ কিছু সিনেমার পোস্টার শেয়ার করে অঞ্জনা লেখেন, ‘মিস্টার অনন্ত জলিল। আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা…আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা…! আপনার এই ডায়ালগ শুনতে শুনতে আমরা বিরক্ত হয়ে গেছি! বিশেষ করে আমি অনেক বিরক্ত হয়েছি। ’
আরও লেখেন, ‘আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বলতে আপনি কী বোঝাতে চেয়েছেন? আপনি আবার বলেছেন, এ দেশে এর আগে এরকম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়নি বা কোনো শিল্পী এরকমভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করেনি। এ বিষয়টা একটু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না!’
অনন্ত জলিলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অঞ্জনা লেখেন, ‘মিস্টার অনন্ত জলিল, আপনি হয়তো জানেন না, আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগেই অসংখ্য আন্তর্জাতিক ব্যবসা সফল চলচ্চিত্রে আমি দাপটের সাথে অভিনয় করেছি। সেখানে তুরস্ক, ইরাক, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও হংকংসহ পাকিস্তানের আরও নিজস্ব ৩টি ভাষা উর্দু, পাঞ্জাবি ও পশতুতে ব্যবসা সফল বহু চলচ্চিত্রে সুনামের সঙ্গে আমি অভিনয় করেছি। বাংলাদেশ থেকে একমাত্র ববিতা আপা আমি ও রোজিনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসংখ্য কাজ করেছি। কিন্তু সর্বাধিক কাজ একমাত্র আমিই করেছি। ’
তিনি বলেন, ‘কিছু বলার আগে একটু ভেবে নেবেন, আর বাংলা চলচ্চিত্র ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সম্পর্কে কিছুটা অনুধাবন করবেন। আমি আপনাকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই যে চলচ্চিত্রের এই ক্রান্তিলগ্নে আপনি আন্তর্জাতিকভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও করবেন আশা করি।’
সবশেষে দেশের চলচ্চিত্রের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস যেনে তারপর নিজের মতো প্রকাশের জন্য অনন্ত জলিলকে পরামর্শ দেন অঞ্জনা।