প্রবাসী শাখার কমিটি গঠন নিয়ে গণ অধিকার পরিষদে বিরোধ

রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন নবীন রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদে বিরোধ দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, প্রবাসী অধিকার পরিষদের কমিটি গঠন নিয়ে এই বিরোধ।

বিষয়টি নিয়ে দলটির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পল্টনে গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা চলে।

অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হককে সদস্যসচিব করে গঠিত ১০১ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে গত বছরের ২৬ অক্টোবর গণ অধিকার পরিষদের যাত্রা শুরু হয়।

নতুন এই দলের একটি অংশের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে নুরুল হক একক সিদ্ধান্তে প্রবাসী অধিকার পরিষদের কমিটি গঠন করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রবাসী সংগঠনটির কমিটিতে পদবঞ্চিত ব্যক্তিরা একটি পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেন। এর পরদিন মঙ্গলবার নুরুল হক ‘অগণতান্ত্রিকভাবে’ গণ অধিকার পরিষদের তিনজন নেতাকে অব্যাহতি দিয়েছেন। তবে নুরুল হকের দাবি, এটি একটি ‘'স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া’ এবং সবার মতামত নিয়েই প্রবাসী সংগঠনের কমিটি করা হয়েছে৷

গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত সোমবার একক স্বাক্ষরে প্রবাসী অধিকার পরিষদের কমিটি ঘোষণা করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা নুরুল হক। এ কমিটিতে কবির হোসেনকে আহ্বায়ক ও সাফায়েত হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ ছাড়া বিপ্লব কু্মার পোদ্দার, রেজা আহমেদ সিদ্দিক, তারেক রহমান, সোহরাব হোসেন, শাকিল উজ্জামান, সাদ্দাম হোসেন, ফয়েজ উল্লাহ, আজাদ আহমেদ পাটোয়ারী ও মনিরুল ইসলামকে করা হয় উপদেষ্টা।

নুরুল হক নিজের ফেসবুক পেজে এ কমিটি প্রকাশ করেন। ওই দিনই প্রবাসী অধিকার পরিষদের আরেকটি অংশ পাল্টা কমিটি ঘোষণা করে। ওই কমিটিতে রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হকের সঙ্গে গণ অধিকার পরিষদের নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খান, ফারুক হাসান, মোহাম্মদ আতাউল্লাহসহ ১৮ জনকে উপদেষ্টা মনোনীত করা হয়। আতাউল্লাহ নিজের ফেসবুক পেজ থেকে কমিটি প্রকাশ করেন।

প্রবাসী অধিকার পরিষদের পাল্টাপাল্টি কমিটি প্রকাশের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের দুটি পক্ষ পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া জানায়। পরদিন মঙ্গলবার রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে' গণ অধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, সহকারী আহ্বায়ক আজাদ আহমেদ পাটোয়ারী ও সদস্য কাজী মোখলেসকে সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে তাদের কেন বহিষ্কার করা হবে না, তার যথাযথ ব্যাখ্যা সাত দিনের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল উজ্জামানের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে। বিজ্ঞপ্তিতে রেজা কিবরিয়ার স্বাক্ষর থাকলেও তিনি গত ২৯ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মোহাম্মদ আতাউল্লাহসহ অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা পল্টনে গণ অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে গেলে সেখানে নুরুল হকের অনুসারীদের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আতাউল্লাহর অনুসারীরা তার পক্ষে স্লোগানও দেন। মিনিট পাঁচেক এই পরিস্থিতি চলে। এরপর অবশ্য পরিস্থিতি শান্ত হয়।

গণ অধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হওয়ার আগে আতাউল্লাহ যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের প্রাক্তন এই ছাত্র ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনেরও অন্যতম নেতা। তার অভিযোগ, গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবস্থায় তার স্বাক্ষরের ‘অপব্যবহার করে’ ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের ‘মতামত ছাড়াই’ কয়েক মিনিটের মধ্যে তাকে অব্যাহতি দিয়েছেন নুরুল।

তবে আতাউল্লাহর এসব অভিযোগ মানতে নারাজ গণ অধিকার পরিষদের সদস্যসচিব নুরুল হক। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সব রাজনৈতিক সংগঠনেই একটা চেইন অব কমান্ড বা শৃঙ্খলা থাকে। সংগঠনের কমিটি গঠন নিয়ে যদি কেউ কোরাম করে এবং ভেতরে-ভেতরে একটা সিন্ডিকেট পাকায়, সেটি টের পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা তো নিতেই হয়।

অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা গতকাল পল্টনের কার্যালয়ে যাওয়ায় অনেকে সেটি নিয়ে ‘একটু চিল্লাপাল্লা’ করেছেন বলে জানান নুরুল হক। তিন নেতাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে রেজা কিবরিয়ার স্বাক্ষরের অপব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বাক্ষরের বিষয়ে রেজা কিবরিয়া অবহিত আছেন।