মুক্তিযুদ্ধের অর্জন চুরির মাধ্যমে বিসর্জন দিচ্ছে দুর্নীতিবাজ সরকার: গণফোরাম

গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেছেন, মানুষের মুখে কোনো ঈদের আনন্দ ছিলো না। জনগণ ঈদ আনন্দ হতে বঞ্চিত হয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং, প্রশাসনের নিরীহ মানুষের ওপর হামলা-মামলা, হেলমেট বাহিনীর অত্যাচারে। সর্বোপরি এই অবৈধ সরকারের দুঃশাসনকাল মানুষের মুখের হাসি কেড়ে নিয়েছে। 

আজ শনিবার বিকাল ৪টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, কী আশ্চর্য! শুধু বিদ্যুৎ খাতে ৭০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ পেতে, যে টাকা দিয়ে প্রায় সাতটা পাওয়ার স্টেশন করা যেত। কার পেটে এই টাকা গেছে? জবাব দিতে হবে। বিদ্যুৎমন্ত্রী জবাব দিতে হবে জনগণের নিকট। চুরি চুরি মহাচুরির রাজত্ব কায়েম করছে চারদিকে। মুক্তিযুদ্ধের অর্জন চুরির মাধ্যমে বিসর্জন দিচ্ছে দুর্নীতিবাজ সরকার।

তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালে ১৫৪টি আসন দখল করলো বিনা নির্বাচনে আসলে ওই নির্বাচন হয়েছিল সাজানো নির্বাচন, ২০১৮ সালে মধ্যরাতের নির্বাচনে ক্ষমতা দখল করে। পৃথিবীর কোথাও এমন কলঙ্কিত ইতিহাস নেই। দেশের বর্তমান ক্রান্তিকাল উত্তরণে একটাই উপায় সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা। ভয় বিতাড়িত করে সাহসে বুক বেঁধে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াইয়ে নামতে হবে সবাইকে দেশ ও জাতির স্বার্থে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, গণফোরামের পক্ষ থেকে বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমেদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা জানাই যার চৌকস নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে। শুভ জন্মদিন মহান নেতা তাজউদ্দীন আহমেদ। দুর্ভাগ্যের বিষয় তার জন্মদিনে কোন রাষ্ট্রীয় আয়োজন চোখে পড়েনি। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে যে তাজউদ্দীন আহমেদের এতো অবদান সেই তাজউদ্দীন কি কারণে রাষ্ট্র থেকে হারিয়ে যায় এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। যারা তাজউদ্দীনদের হারিয়ে দিতে চায় ইতিহাসে তারাই হারিয়ে যাবে। 

তিনি বলেন, একযুগ ধরে দুঃশাসনের মাধ্যমে লুটপাট করে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে ফেলেছে। জনগণের টাকা লুটপাট করার সুযোগ করে দিয়েছেন আপনি ও আপনার সরকার। আমরা গণফোরাম এর বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের নেতৃত্বকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করে এখন তা বেমালুম ভুলে গেছেন। এমন বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছেন আর কখনো নাকি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি হবে না, লোডশেডিং জাদুঘরে পাঠাবেন, তবে এখন কি হচ্ছে? এগুলো দেখে আমাদের লজ্জা হয় আপনি জনগণের সাথে প্রতারণা ও মুনাফেকি করেছেন। আপনার সরকারের প্রতারণা আর মুনাফেকির শাস্তি জনগণ দিবে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আপনাদের হটিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণফোরাম ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী ও সঞ্চালনা করেন গণফোরাম ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম।

আরও বক্তব্য রাখেন গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের, সভাপতি পরিষদ সদস্য আব্দুল হাসিব চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লতিফুল বারী হামীম, তথ্য ও গণমাধ্যম সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু, ছাত্র সম্পাদক মোঃ সানজিদ রহমান শুভ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিবুর রহমান বুলু, ঢাকা জেলা সভাপতি আবদুল হামিদ মিয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান ঝান্টু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফারুক হোসেন, কামাল উদ্দিন সুমন , মশিউর রহমান বাবুল, নূর-নবী, ইসমাঈল সম্রাট, শেখ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।