সামগ্রিক থিয়েটার চর্চার বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন গঠিত হলেও চার দশকে দাঁড়িয়ে সঠিক পথে হাঁটছে না দেশের নাট্যাঙ্গনের প্রতিনিধিত্বকারী এ সংগঠনটি। দেশের সাম্প্রতিক থিয়েটার চর্চায় সংকট ও উত্তরণবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন বক্তারা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর নাটক সরণির মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে ‘সাধারণ নাট্যকর্মীদের’ ব্যানারে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, মফিদুল হক, আসাদুজ্জামান নূর, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, আহমেদ ইকবাল হায়দার, মোহাম্মদ বারী, আজাদ আবুল কালাম, অলোক বসু, কামাল বায়েজীদ, রফিকুল্লাহ সেলিম, কামরুন নূর চৌধুরী, তপন হাফিজ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, আশির দশকের শুরুর দিকে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের জন্ম। শুরু থেকে নাট্যচর্চার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে পথ হারিয়েছে ফেডারেশন। ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতি লিয়াকত আলী লাকী একই সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হওয়ার কারণে প্রতিবাদী রূপ থেকে দূরে সরে গেছে ফেডারেশন।
সভায় কামাল বায়েজীদ বলেন, ‘লিয়াকত আলী লাকীর অনিয়মের কারণেই গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন পথ হারিয়েছে। আমাকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি হোক, আমি দোষী হলে আমাকেও শাস্তির আওতায় নেওয়া হোক। কিন্তু একজন লোকের অন্যায়ের জন্য নাট্যকর্মীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হতে পারে না।’
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘ফেডারেশনে কোন্দলের খবরে আমরা মর্মাহত হই। অথচ অনেক সাফল্য আছে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের। অভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন বাতিলে ফেডারেশন ভূমিকা রেখেছে। দেশের প্রগতিশীল আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকেছে। কিন্তু এখন সেই রূপে আর দেখা যায় না।’
মতবিনিময় সভায় লিয়াকত আলী লাকীর উপস্থিতি প্রত্যাশা করে আজাদ আবুল কালাম বলেন, ‘আমি খুব চেয়েছিলাম, লাকী ভাই এখানে উপস্থিত থাকুন। উনার সামনে আমরা কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আসলেন না।’