বুধবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডি-৮ (উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্মেলনে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া আলোয়চনায় ঢাকার পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেওয়া হবে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি।
রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডি-৮ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
ডি-৮ সম্মেলনে ঢাকার পক্ষ থেকে বাণিজ্য বাড়ানোর আলোচনা হবে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, সম-রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কীভাবে ইন্ট্রা-ট্রেড বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করা যায় কি না, সেটা নিয়ে আমরা আলোচনা করবো। পিটিএ ইমপ্লিমেন্ট বাড়াতে পারব বলে আশা করি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্মেলনে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হবে। এ বিষয়ে খুব জোর দেওয়া হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হবে। এটা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এটা এখন বৈশ্বিক ইস্যু। আমরা ক্লাইমেট রেজুলেশন্সের ওপর জোর দেব। ট্যুরিজম সেক্টর নিয়েও আলোচনা হবে, যদিও এ সেক্টরে আমরা ম্যাচিউরড নই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছরের ডি-৮ সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার এই সংগঠনের ২৫তম বর্ষপূর্তি। এ উপলক্ষে আজারবাইজান সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। ওদের এই আবেদন গ্রহণ করা হবে কিনা সেটি নিয়েও আলোচনা হবে এবং সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের স্থায়ী প্রতিনিধি করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। নাইজেরিয়া কর্তৃক ডি-৮ ইয়ুথ কাউন্সিল গঠনের বিষয়টি আলোচনা করা হবে।’
জ্বালানি বিষয়ে ড. মোমেন বলেন, জ্বালানি খাত এখন একটি গুরুত্বপপূর্ণ খাত। সব সম্মেলনেই এই বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে। এই সম্মেলেনও আমরা বিষয়টি আলোচনা করব কীভাবে আমরা উপকেৃত হতে পারি। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বক্তব্য থাকবে, এটা এখন ‘হট টকিং’। আমার মনে হয়, অন্যান্য দেশও এ বিষয়ে আলোচনা করবে।
ড. মোমেন খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে বলেন, এ বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এর মধ্যেই খাদ্য নিরাপত্তার বাড়াতে দেশবাসীকে বলেছি। আর সম্প্রতি আমরা ফুডের বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছি। ডি-৮ সম্মেলনে আমাদের আলোচনার সাবজেক্ট এটি। তবে অন্যরা কী করবে, সেটা বলতে পারছি না। খাদ্য নিরাপত্তায় আমরা যথেষ্ট কাজ করছি। আমরা কনট্যাক্ট ফার্মিং বিষয়ে কাজ করছি।
এদিকে এ সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খার। প্রায় ১০ বছর পর পাকিস্তান কোনো মন্ত্রী ঢাকায় পাঠাচ্ছেন। সম্মেলনে যোগদানের ফাঁকে হিনা রাব্বানীর সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে কিনা এই প্রশ্নে ড. মোমেন বলেন, ‘উনি দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে আসছেন না। ওনার সঙ্গে সম্মেলনেই আলাপ করব।’
মন্ত্রী জানান, ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এখনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়ে কোনো শিডিউল চাওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, ডি-৮ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঢাকায় সম্মেলনে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তবে সবাই আসছেন না বলে জানান মন্ত্রী। আমন্ত্রিতদের মধ্যে মিশরের অ্যাসিস্ট্যান্ট মিনিস্টার, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দূত, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল, নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তুরস্কের ডেপুটি মিনিস্টার অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স আসবেন।