ফরিদপুর জেলা জজ আদালতের সমন গ্রহণ না করে সমন জারিকারকদের নিগ্রহের ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগে হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন জেলার বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও একই কার্যালয়ের নাজির উকিল মিয়া।
আদালত তাদের ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর করে দায়িত্বের প্রতি আরো সচেতন হওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করেছে।
সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ দুজনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেয়।
গত ২৭ এপ্রিল বেলা আড়াইটার দিকে ফরিদপুর জেলা জজ আদালতের নেজারত বিভাগের দুজন কর্মচারী একটি দেওয়ানি মামলার সমন নোটিশ জারি করতে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রথমে উকিল মিয়া ব্যস্ততা দেখিয়ে দীর্ঘ সময় তাদের বসিয়ে রাখেন এবং বিচার বিভাগ নিয়ে কটূক্তি করেন। এরপর ইউএনও রেজাউল করিম দুজনকে ডেকে নিয়ে কার্যালয়ের স্টাফদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তার কক্ষে আটকে রেখে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার হুমকিসহ দুজনের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মুচলেকা নিয়ে তাদের চলে যেতে বলেন।
ঘটনার পর ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ওই ইউএনওকে শোকজ করলেও তিনি (ইউএনও) হাজির হননি। পরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে লিখিত আকারে অবহিত করার পর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এটি প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করে। পরে এটি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
হাইকোর্টের তলবের প্রেক্ষিতে গত ২১ জুন আদালতে হাজির হয়ে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চান ইউএনও রেজাউল করিম ও তার কার্যালয়ের নাজির। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার বিষয়টি শুনানিতে আসে।
রেজাউল করিমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব শফিক। উকিল মিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. মোজাম্মেল হক।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত ইউএনওর ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর করে তাকে আরো দায়িত্বশীল হওয়া এবং ভবিষ্যতের সতর্ক করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।’