জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগের মামলায় উচ্চ আদালতে জামিন মেলেনি পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এ মামলায় তাকে জামিন না দিয়ে ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
আদালতে মিজানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব শফিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
অ্যাডভোকেট খুরশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তিনি (মিজান) জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত জামিন না দিয়ে মামলাটি ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে এ মামলায় ২৩ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।’
৩ কোটি ২৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ৩ কোটি ৭ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৪ জুন মিজানুর রহমান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনার রত্না, ভাগ্নে পুলিশের এসআই (উপ-পরিদর্শক) মাহমুদুল হাসান ও ছোট ভাই মাহবুবুর রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। একই সঙ্গে মিজানুর রহমানের অবৈধ সম্পদের তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত করতে গিয়ে দুদক কর্মকর্তা (বর্তমানে বরখাস্ত) খন্দকার এনামুল বাছির মিজানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও বক্তব্য দেন মিজান। নানা বিতর্কের মধ্যে ২০১৯ সালের ২৫ জুন পুলিশের ডিআইজির পদ থেকে মিজানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ঘুষ লেনদেনর মামলায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি আদালত মিজানকে তিন বছরের সাজা দিলেও অর্থ পাচারের মামলায় তাকে খালাস দেয়।
এ ছাড়া বাছিরকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে তিন বছর ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ৫ বছরসহ মোট আট বছর কারাদণ্ড দেয় আদালত। সাজা থেকে খালাস চেয়ে ইতোমধ্যে দুজনেই হাইকোর্টে আপিল করেছেন।