সেরা ছয় দলের টেস্ট চান শাস্ত্রী

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত সূচির কারণে শারীরিক ও মানসিক অবসাদে ভুগছেন ক্রিকেটাররা। এ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় ম্যাচ কমানো। কিন্তু ক্রিকেটের বাণিজ্যকরণের যুগে তা কি সম্ভব? বেন স্টোকস ওয়ানডে থেকে অবসর নেওয়ার পর ওয়াসিম আকরামের মতো কিংবদন্তিরা বলছেন ওয়ানডে ক্রিকেটটাই তুলে দিতে। এমন প্রেক্ষাপটে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার-কোচ ও ক্রিকেট বিশ্লেষক রবি শাস্ত্রী বলছেন সেরা ৬ দলের টেস্টের কথা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচিকে ‘সহনীয়’ করার এটাই একমাত্র উপায়। রবি শাস্ত্রী বলেছেন, ‘যদি টেস্ট ক্রিকেটকে আকর্ষণীয় করতে হয়, যদি এই সংস্করণকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়, তাহলে ১০-১২টি টেস্ট দলের কোনো দরকার নেই। সেরা ৬টি দল থাকুক। খেলার পরিমাণের চেয়ে মানে আমরা জোর দিই। এটাই অন্য সংস্করণের খেলাগুলো আয়োজিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। আইসিসি দলের সংখ্যা বাড়াতে চাইলে টি-টোয়েন্টি কিংবা ওয়ানডেতে বাড়াক। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে অবশ্যই দলের সংখ্যা কমিয়ে ফেলা উচিত। তখন ইংল্যান্ড খেলতে উইন্ডিজে যাচ্ছে কিনা, কিংবা উইন্ডিজ খেলতে ইংল্যান্ডে যাবে কিনাÑ এসব কোনো বিষয় হবে না।’ ইংল্যান্ডের টেলিভিশন চ্যানেল স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাস্ত্রী আরও বলেন, ‘কোন ৬ দল টেস্ট খেলবে, সেটি তাদের পারফরম্যান্স দিয়েই বিচার করা হোক। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকাÑ যারাই খেলুক, নিজেদের শীর্ষ ছয়ে রেখেই তাদের খেলতে হবে। অন্য কোনো দল শীর্ষ ছয়ে এলে তারা খেলবে। মোট কথা যেকোনো দলকেই শীর্ষ ছয়ে আসতে হবে বাছাই পর্ব পার হয়ে।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে অনেকটা ফুটবলের মতো করে পরিচালনার কথাও বলেছেন রবি শাস্ত্রী, ‘ফুটবলের মতো করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চলুক। ফুটবলে যা হয়, সেখানে একটিই বিশ্বকাপ। একটাই বড় আসর। ফুটবলাররা সারা বছর ধরে বিভিন্ন দেশে পেশাদার লিগ খেলে। ক্রিকেটেও সেটি হোক টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ দিয়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট কাকে বলে, এই উত্তরটা আগে সবাইকে জানতে হবে। টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে ক্রিকেটারদের পরীক্ষা, এই পরীক্ষায় পাস করতে হলে আপনার সামর্থ্য থাকতে হবে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট যদি মানসম্মত না থাকে, তাহলে এটি দেখবে কে! পাঁচ দিনের খেলা শেষ হবে দুই দিনে কিংবা তিন দিনে। যে দেশ কখনই টেস্ট খেলেনি, সেই দেশকে যদি টেস্টে বোলিং উপযোগী কন্ডিশনে ইংল্যান্ড, ভারত কিংবা অস্ট্রেলিয়ার সামনে ছেড়ে দেন, তারা কি খেলতে পারবে? এই টেস্ট সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকা সংস্থাও ব্যবসা ঠিকমতো করতে পারবে না। পাঁচ দিনের খেলা দুই দিনে শেষ হলে তো ক্ষতি তারও। পাঁচ দিনের ম্যাচ দুই দিনে শেষ হলে ক্রিকেটপ্রেমীরাও খুশি হবেন না।’