দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৩৫ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আবাসন ও শৃঙ্খলা কমিটি।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রলীগের একাংশ ও কিছু শিক্ষার্থীরা।
গত সোমবার বিকেল থেকে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ও শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
হাবিপ্রবির একটি দায়িত্বশীল সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানায়, সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ২ জন শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার ও ৬ জন শিক্ষার্থীকে ২ বছর পর্যন্ত সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
একইসাথে ২৭ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হবে। আবাসন ও শৃঙ্খলা কমিটির এই সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিলে পাশ হওয়ার পর রিজেন্ট বোর্ডের সভায়ও উত্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি আবাসিক হলে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও বিষয়টি নিশ্চিত করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এদিকে, এই সিদ্ধান্তের পর সোমবার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশ ও কিছু শিক্ষার্থী দফায় দফায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ও বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তারা উপাচার্যের বাস ভবনের সামনে অনশন শুরু করেন।
ঘটনা জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার উপদেষ্টা ছাত্রদের দাবির ব্যাপারে কথা বলার আশ্বাস দিয়ে অনশন প্রত্যাহার করান।
এ ব্যাপারে মঙ্গলবার বিকেলে আবারও ছাত্রদের সঙ্গে শিক্ষকরা বৈঠকে বসেন। কিন্তু ওই বৈঠকে আবাসন ও শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তই বলবৎ থাকবে বলে ছাত্রদেরকে জানানো হয়।
বিষয়টি জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. কামরুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি জানতে প্রক্টর সাহেব ও এডভাইজার সাহেবের সাথে কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা শাখার উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইমরান পারভেজ বলেন, ছাত্রদের দাবি বিচারের প্রক্রিয়াটা নতুন করে তদন্তের দাবি। তারা রেজিষ্ট্রার বরাবরে আবেদন করেছে। আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু এটি এখনই বলা যাচ্ছে না, প্রকাশিত হওয়ার পর বলা যাবে। এ জন্য আপনাদেরকে একটু অপেক্ষা করতে হবে।
বিষয়টি জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. বিধান চন্দ্র হালদার বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আবাসন ও শৃঙ্খলা কমিটির সভায় একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি পাবলিশ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা হবে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ব্যাপারে তিনি বলেন, এখনো তো ঘোষণাই করা হয়নি শাস্তি বা কোনো কিছু। ঘোষণা করার পর হয়তো বলা যায় কারও পক্ষে গেছে, কারও বিপক্ষে গেছে। অনুমান করে বলা ঠিক না।
উল্লেখ্য, পূর্বের জের ধরে গত ৩০ জুন দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি)ও ডরমেটরি-২ হলের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আনজারুল ইসলামকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৮-১০ জন শিক্ষার্থী মারধর করে। পরে ডরমেটরি-২ হলের শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে শেখ রাসেল হলে গেলে উভয় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিষয়টির মীমাংসা করাকালে শেখ রাসেল হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা ডরমেটরি-২ আবাসিক হলের ভেতরে প্রবেশ করে লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া দেয় এবং ভাঙচুর চালায়।
পরে ডরমেটরি-২ ও তাজউদ্দিন আহমদ হলের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হলে আক্রমণ করে। প্রায় আধঘণ্টা ধরে তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ভেতরে ভাঙচুর চালায়।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।
পরে এই ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।