নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত শিশু মাথায় ‘বড় ধরনের’ আঘাত পায়

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার পর দুপক্ষের সংঘর্ষের জেরে পুলিশের গুলিতে নিহত শিশু সুরাইয়ার (১০ মাস) মরদেহ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শিশুটি মাথায় বড় ধরনের আঘত পায় বলে জানা ময়নাতদন্তে জানা গেছে।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডেকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

পরে স্থানীয় মিরডাঙ্গী স্কুল মাঠে ওই শিশুর জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনী সহিংসতায় শিশু মৃত্যুর ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাম কৃষ্ণ বর্মনকে প্রধান তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ এবং জেলা নির্বাচন অফিসার সফিকুল ইসলাম।

এদিকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, শিশু সুরাইয়ার মাথার পুরো মগজ ছিল না। তার মাথার ডান পাশে হাড়গোড় নাই, যা আছে তা ভাঙ্গাচোরা। হয়তো বড় ধরনের আঘাতের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে বুলেটের আঘাত আছে কি না এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি ফরেনসিক বিভাগের এ প্রভাষক।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার মোহা. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রের ফলাফল শেষে কেন্দ্র ত্যাগ করার সময় পরাজিত মেম্বার প্রার্থীদের পক্ষ থেকে আমাদের মোবাইল টিম ও সদর সার্কেলের ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে। জানমালের রক্ষার্থে পুলিশ চার রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে দুজন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় একটি শিশু মারা যায়। কীভাবে মারা গেল এটি এখনো জানা যায়নি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে এখনো কোনো মামলা হয়নি।

তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে আইনী প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা বলেন পুলিশ সুপার।

জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আমরা তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে তারা তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবেন। নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে রানীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওর্য়াডের ভাংবাড়ি ফুটকীবাড়ি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর সেখানে মেম্বার প্রার্থী জলিল-ফয়জুল ইসলামের সমর্থকদের মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে গেলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।

এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাথার খুলি উড়ে গেলে ঘটনাস্থলে নিহত হয় সুরাইয়া। আহত হয় আরো তিন পুলিশ সদস্যসহ সাতজন।