কিশোর গ্যাংয়ের হাতে ২ কলেজছাত্র খুন: মহাসড়কে লাশ রেখে অবরোধ

সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোর গ্যাং চক্রের সদস্যদের ছুরিকাঘাতে ইমন ও শাহরিয়ার জয় নামে দুই কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো একজন। ঘাতকদের শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সানারপাড় বাস স্ট্যান্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহামড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। 

পূর্বশত্রুতার জের ধরে বুধবার সন্ধ্যায় সানারপাড় বাঘমারা এলাকায় মামা ভাগিনা গলিতে তাদের ওপর ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় মশিউর রহমান রাজু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক সঙ্গে দুই কলেজছাত্রকে খুন করায় এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

নিহত ইমন আদর্শনগর এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি স্থানীয় আলী আকবর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। অনার্সের ছাত্র শাহরিয়ার জয় একই এলাকার বাসিন্দা। আহত তরিকুজ্জামান রনি সোনারগাঁয়ের নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া ডিগ্রি কলেজের ছাত্র।  

নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল ওহাব জানান, নিহত ইমন ও হামলাকারী কিশোর গ্যাং গ্রুপের নেতা রাসেল ওরফে ডংকু রাসেল বন্ধু ছিলেন। রাসেল অপকর্মে জড়িয়ে পড়ায় ইমন তার সঙ্গ ত্যাগ করেন। এতে রাসেলের সঙ্গে ইমনের শুত্রুতা তৈরি হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল বুধবার সকালে তার গ্যাংয়ের আট-দশজন সদস্য নিয়ে ইমনকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে মারধর করে। পরে সন্ধ্যার দিকে ইমন, শাহরিয়ার জয় ও তরিকুজ্জামান রনিকে বাঘমারা মামা ভাগিনা গলিতে পেয়ে রাসেল ও তার সঙ্গীরা হামলা চালায়। এ সময় ইমন ও জয়কে সন্ত্রাসী রাসেল ও মশিউর রহমান রাজু উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমনকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা যান শাহরিয়ার জয়ের।

নিহত ইমনের মা শাহিনুর বেগম বলেন, আমার ছেলের 

ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে জানতে পারি এ ঘটনায় জড়িত রয়েছে সন্ত্রাসী রাসেল, মশিউর রহমান রাজু, স্বপন, আব্দূল খলিল, মো. ইয়াসিন, রাজিব ও বিজয়। দুপুরে মারা গেছেন শাহরিয়ার জয়। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডংকু রাসেলের নেতৃত্বে বাঘমারা এলাকায় কিশোর গ্যাং চক্র গড়ে উঠেছে। তারা এলাকায় মাদকসহ নানা অপকর্ম করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাদের অপকর্মের প্রতিবাদ করলেই হামলার শিকার হতে হয়।   

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে খুনিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে লোকজন লাশ নিয়ে সড়ক থেকে চলে যায়। খুনের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হত্যা মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।