মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে কমছে উৎপাদন

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সময়সূচি বেঁধে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও শিল্প-কলকারখানা অধ্যুষিত গাজীপুরে লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না কোনো সময়সূচি। দিনে কোথাও ৫-৬ বার আবার কোথাও এর চেয়ে বেশি সময় ধরে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। কলকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার জন্য শিল্পকারখানা অধ্যুষিত এলাকায় কম লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গাজীপুরের শিল্পমালিকরা। লোডশেডিংয়ের পাঁকে পড়ে তাদের কারখানায় উৎপাদন আগের চেয়ে কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এদিকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সময়সূচিবিহীন লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ বিদ্যুতের সাধারণ গ্রাহকরাও। বিদ্যুৎ কখন যায়, আর কখন আসে তার হিসাব রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্প-কারখানা ছাড়াও সাধারণ ব্যবসাবাণিজ্যও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সময়সূচি বেঁধে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং পদ্ধতি চালু হওয়ার কথা থাকলেও গাজীপুরে চলছে আগের মতোই দফায় দফায়। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৬৫০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে মিলছে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট। ২০০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি মোকাবিলায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে দফায় দফায়।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক (সিনিয়র জিএম) যুবরাজ চন্দ্র পাল জানান, প্রতিদিন ৪৩৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে তিনি পাচ্ছেন প্রায় ৩৩৫ মেগাওয়াট। ১৫৫টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো হয়। এর মধ্যে ১০০টি ফিডারে শিল্পকারখানা রয়েছে। বাকিগুলো আবাসিক। শিল্পকারখানায় লোডশেডিং না করার জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। তাই ওই ১০০ ফিডার বাদ দিয়ে ৫৫টি ফিডারে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গত মঙ্গলবার তার আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল ৮০ মেগাওয়াট। এই ঘাটতি সমন্বয়ের জন্য আবাসিক ৫৫টি ফিডারে লোডশেডিং করতে গিয়ে অর্ধেকের বেশি ফিডার বন্ধ রাখতে হয়েছে।

সময়সূচি বেঁধে লোডশেডিং না করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবরাজ চন্দ্র পাল বলেন, ‘জাতীয় গ্রিড থেকে সরাসরি লোড ম্যানেজমেন্ট করা হয়। উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে দ্রুত নতুন নিয়মে লোডশেডিং করা হলেও গ্রাহক জানতে পারছে না কোন এলাকায় কখন লোডশেডিং হবে।’

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর মাওনা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহাম্মদ শাহ আল জাবেদ জানান, তার উপজেলায় চাহিদা ৯৫ মেগাওয়াট, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ৬০ বা ৬৫ মেগাওয়াট। ঘাটতির ৩০-৩৫ মেগাওয়াট সামাল দিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এই উপজেলার ২৭টি ফিডারের সব কটিতেই শিল্পকারখানা রয়েছে। ফিডারগুলোতে পর্যায়ক্রমে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে। এ কারণে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১২টা ফিডার বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন প্রতিষ্ঠান মালিকরা। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ড বাজারের জাঝর এলাকার ইউনিক অ্যাপারেলসে গিয়ে বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন বন্ধ থাকতে দেখা যায়। শ্রমিকদের কেউ বাইরে আবার কেউবা কারখানার ভেতরে ছিলেন আড্ডায় মশগুল। সুপারভাইজর মতিউর রহমান বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টায় বিদ্যুৎ গেছে। এখন সাড়ে ১২টা বাজলেও বিদ্যুৎ আসার খবর নেই।’