দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নুর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সাবেক উপদেষ্টা মন্ডলীর এই সদস্যের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সোমবার বাদ জোহর সাটুরিয়া কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদে মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখন, সিনিয়র সহসভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন ঠান্ডু, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সরকার, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আজাদ বিপ্লব।
আরো উপস্থিত ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ আমীর হামজা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মহসীনোজ্জান, শ্রমিক দলের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন সহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি ও সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন।
হারুনার রশীদ খান মুন্নুর পৈতৃক বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামে।
১৯৩৩ সালের ১৭ই আগস্ট জন্ম গ্রহণ করেন। ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৫২ সালে বাণিজ্য শাখায় প্রথম বিভাগ পেয়ে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৫৪ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে এইচএসসি পাস করেন তিনি। ১৯৫৬ সালে বি.কম পাস করেন এবং পরবর্তীতে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস কোর্স সম্পন্ন করেন।
পরে মুন্নু ঢাকার ওয়ারীতে মুন্নু আর্ট প্রেসের মাধ্যমে তার কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন, যার পূর্ণতা পায় মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। তিনি মুন্নু সিরামিক, মুন্নু জুটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, মুন্নু ফেব্রিকস, মুন্নু অ্যাটায়ার লিমিটেডসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান করেছেন। সমগ্র জীবনের উপার্জন মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনে উইল করেছেন, যার মাধ্যমে শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নে রেখেছেন অনন্য অবদান। মুন্নু মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, মুন্নু নার্সিং ইনস্টিটিউট, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তার সৃষ্টি। কৃষিপ্রধান মানিকগঞ্জকে শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পেছনে তার ভূমিকা অসামান্য। জেলাবাসী তাকে ‘দানবীর’ হিসেবে এখনও স্মরণ করেন।
উল্লেখ্য হারুনার রশিদ খান মুন্নু বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা। ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এরপর ১৯৯৬ সালেও নির্বাচিত হন তিনি । ২০০১ সালের নির্বাচনে একসঙ্গে মানিকগঞ্জ-২ আসন ও মানিকগঞ্জ-৩ আসন থেকে জয়লাভ করেন। পরে মানিকগঞ্জ-২ আসন ছেড়ে দিয়ে সাটুরিয়া- মানিকগঞ্জ- ৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে থাকেন।
২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তাকে মন্ত্রী করা হয়। পরে তাকে কোন দপ্তর দেওয়া না হলে মন্ত্রী পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন।
পরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ২০১৭ সনের ১ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।