১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আওয়ামী লীগের কমিটিতে!

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে স্থান পেয়েছেন অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি। উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পাওয়া ওই আসামির নাম জুবাইদুল্লাহ লিটন। তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। গত ২৬ জুলাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন তার নাম ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

জানা যায়, পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হয় গত মাসের ২৬ জুলাই। পেকুয়া বাজারের সমবায় কমিউনিটি সেন্টারে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে উপজেলা কমিটির সভাপতি-সম্পাদকসহ বেশ কয়েকটি পদে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করা হয়। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জুবাইদুল্লাহ লিটনের নাম ঘোষণা করা হলে উপস্থিত কাউন্সিলরদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এসময় লিটনও অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

পেকুয়া থানা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টইটং ইউনিয়নের হাজিরপাড়া গ্রামের হাবিবুল্লাহর পুত্র জুবাইদুল্লাহ লিটনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে পেকুয়া থানা পুলিশের তৎকালীন এসআই হুমায়ান কবির বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ২০০৮ সালের ৩০ মার্চ কক্সবাজার আদালতের ১ নম্বর স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে লিটনের ১০ বছরের সাজা হয়। মামলায় বেশ কিছুদিন কারাগারেও ছিলেন লিটন। পরে উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে তার সাজা এখনো বাতিল হয়নি। সাজার বিরুদ্ধে আপিল করে লিটন জামিনে রয়েছেন।

মামলা প্রসঙ্গে জুবাইদুল্লাহ লিটন বলেন, ‘অস্ত্র মামলাটি আমার বিরুদ্ধে সাজানো এবং ষড়যন্ত্রমূলক ছিল। আমি দুঃসময়ে রাজনীতি করেছি। মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছি। তাই দলীয় পদ পেয়েছি।’

অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত লিটনকে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল্লাহ বলেন, ‘কাউন্সিল অধিবেশনেই লিটনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।’ এর বাইরে তিনি আর মন্তব্য করেননি।