ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ফেনী অংশে শশর্দী থেকে মুহুরীগঞ্জ পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটারের মধ্যে অনুমোদনহীন-অরক্ষিত ১২টি ও ২১টি অনুমোদিত রেলক্রসিং রয়েছে। চলতি বছরের ৭ মাসে রেলপথের ফেনী অংশে ট্রেনে কাটা পড়ে ৯ ব্যক্তির মৃতু্যু হয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) রিটন চাকমা জানান, প্রতিনিয়ত ইচ্ছেমতো রেললাইনের ওপর দিয়ে পথ তৈরি করা হচ্ছে। অনুমোদনহীন এসব ক্রসিং সবচেয়ে বেশি রয়েছে মুহুরীগঞ্জে। এখানে ৬টি অনুমোদনহীন রেলক্রসিং তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া শশর্দী, দেওয়ানগঞ্জ, ফাজিলপুরে রয়েছে আরও ৬টি। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে মুহুরীগঞ্জ।
ফেনীর বারাহীপুর রেলক্রসিং এলাকার দায়িত্বে থাকা গেটম্যান জীবন জানান, ট্রেন আসার আগেই গেট বন্ধ করা হয়। কিন্তু গাড়ির ড্রাইভার ও পথচারীরা দ্রুত রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
অনুমোদনহীন এসব রেলক্রসিং প্রসঙ্গে ফেনী রেলস্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, রেলপথের পাশে বসতঘর থাকায় বিভিন্ন সময় অনুমোদনহীন ক্রসিং তৈরি করা হয়। ফলে দুর্ঘটনার শঙ্কা অনেক বেশি বাড়ছে।
রেলওয়ে পুলিশের ফেনী ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নফিল উদ্দিন জানান, চলতি বছরের ৭ মাসে রেলপথের ফেনী অংশে ট্রেনে কাটা পড়ে ৯ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত বছরের ১১ অক্টোবর ভোরে ফতেহপুর রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে পড়লে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। এতে ৪ ব্যক্তি প্রাণ হারান।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর ফেনী জেলা সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, তিন কারণে রেলের লেভেল ক্রসিংয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। অবৈধভাবে রেল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বা সমন্বয় না করে যেসব রাস্তা বানানো হয়েছে, সেসব লেভেল ক্রসিংয়ের বেশির ভাগই অরক্ষিত। গেটম্যান না থাকায় অনেক বৈধ লেভেল ক্রসিংও সুরক্ষিত নয়। আবার রেলের লেভেল ক্রসিং পারাপারে অনেক সময় সচেতনতার পরিচয় দেন না চালক-পথচারীরা। এ ছাড়া গেটম্যানদের অবহেলা তো রয়েছেই। ফলে থামছে না দুর্ঘটনা, দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল।