ভোলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

আইসিইউতে নূরে আলম, দুই মামলায় আসামি ৪ শতাধিক

ভোলায় পুলিশের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলমের অবস্থা সংকটাপন্ন। গতকাল সোমবার রাত ৮টা পর্যন্ত জ্ঞান ফেরেনি রাজধানীর গ্রিন রোডের কমফোর্ট হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নূরে আলমের। শিগগিরই জ্ঞান ফিরবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন তার চিকিৎসকরা।

যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে গতকাল দেশ রূপান্তরকে নূরে আলমের সর্বশেষ অবস্থার কথা জানান। 

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নূরে আলমের অবস্থা ক্রিটিক্যাল। চিকিৎসকরা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা সার্বক্ষণিক তার খোঁজখবর রাখছি।’  

যুবদল নেতা নয়ন বলেন, ‘পুলিশের ছোড়া গুলি আলমের মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান তিনি। ভোলা থেকে তাকে ঢাকায় আনতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। রাতে তাকে রাজধানীর শ্যামলীতে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ না থাকায় সঙ্গে সঙ্গে কমফোর্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে সরাসরি আইসিইউতে নিয়ে যান। এখন নূরে আলম সেখানেই আছেন।’

তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় গুলি লেগে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে নূরে আলম স্ট্রোক করেন। নানান জটিলতায় তার জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি আমরা।

সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভোলায় নিহত আব্দুর রহিমের গায়েবানা জানাজায় অংশ নেওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নূরে আলমকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় চিকিৎসকের কাছে থেকে তার অবস্থার খোঁজ নেন বিএনপি মহাসচিব। মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন নূরে আলমের বড় ভাই আবুল কাশেম, বিএনপি স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা হায়দার আলী লেনিন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) যুগ্ম মহাসচিব ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ডা. শাহীনুল ইসলাম, ছাত্রদলের সাবেক নেতা কাজী মোক্তার হোসেন প্রমুখ।

দুই মামলায় আসামি ৪ শতাধিক : এদিকে ভোলায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদকসহ ৪ শতাধিক নেতাকর্মীর নামে দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে ভোলা সদর মডেল থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের ওপর হামলার এবং  স্বেচ্ছাসেবকদল কর্মী হত্যার ঘটনায় এ মামলা দায়ের করেন ভোলা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. জসিম। মামলায় ৭৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবকদলের কর্মী আব্দুর রহিম (৩৫) হত্যার ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা আরেকটি মালামার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর।

গত রবিবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপির প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপিকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।