স্পিন নির্ভর বাংলাদেশে পেস বিপ্লব খুব বেশিদিনের নয়। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকেই তা চোখে পড়ছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রুবেলের সেই উইকেটের পর দেশের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে চার পেসার প্রশংসা কুড়িয়েছিল। মোস্তাফিজের উত্থান সেখান থেকেই। গত কয়েক বছরে পেস ইউনিট বেশ শক্তিশালি হয়ে উঠেছে। তবে চলমান জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই দেখা গেছে পেসারদের ছন্নছাড়া বোলিং। যা পুড়িয়েছে সমর্থকদের, ভাবিয়ে তুলেছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। টি-টোয়েন্টিতে ভালো করার জন্য টাইগার পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের পরামর্শ তাই বোলারদের হতে হবে স্ট্রিট স্মার্ট, যাকে তিনি ২৪ বলের ধাঁধা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শরিফুলদের ছন্নছাড়া বোলিং দেখা গেছে সিরিজের প্রথম ম্যাচে। মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে ২০৫ রান তুলে ফেলেছিল জিম্বাবুয়ে। তিন পেসার ফিজ, তাসকিন ও শরিফের ১২ ওভার থেকেই এসেছিল ১৩৭ রান। গড় ছিল ১১.৪১। বাংলাদেশও ভালোই ব্যাটিং জবাব দিয়েছিল। কিন্তু ১৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। একই দৃশ্য দেখা গেছে দ্বিতীয় ম্যাচেও। তাসকিনের বদলে খেলেছিলেন হাসান মাহমুদ। তিনি বদলী হিসেবে আস্থার কিছুটা প্রতিদান দিতে পেরেছিলেন। মোস্তাফিজ ১ উইকেট নিতে খরচ করেছেন ৩০ রান। আগের ম্যাচে যিনি ৫০ রান খরচ করে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। আর উইকেট শূন্য শরিফুল দেন ৪ ওভারে ৩৭ রান।
দুই ম্যাচে ৮ ওভার বোলিং করে মোস্তাফিজ দিয়েছেন ৮০ রান। গড়ে ওভারপ্রতি ১০ রান। যদিও উইকেট নিয়েছেন তিনটি। শরিফুল সমানসংখ্যক ওভার করে দিয়েছেন ৮২ রান। সিরিজে উইকেট শূন্য থাকা এই বোলার ওভার প্রতি দিয়েছেন ১০ রানেরও বেশি। এক ম্যাচ খেলা তাসকিন ৪ ওভার বল করে উইকেশূন্য থেকে দিয়েছেন ৪২ রান। তারও গড় দশের ওপরে। শুধুমাত্র দ্বিতীয় ম্যাচে খেলা হাসান মাহমুদ ৪ ওভারে ১ উইকেট নিয়ে দিয়েছেন ২৬ রান।
টাইগার পেসারদের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্স ভাবিয়ে তুলেছে বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডকে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণে ভালো করতে হলে তাই পেসারদের এক পথ খুঁজে বের করেছেন। তিনি বলেছেন, বোলারদের হতে হবে স্ট্রিট স্মার্ট, যাকে তিনি ২৪ বলের ধাঁধা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ডোনাল্ড বলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একবার দক্ষিণ আফ্রিকা ৯০ রানে অলআউট হয়েছিল। তাই টি-টোয়েন্টি এমন একটি খেলা যা অনেক কিছু শেখায়। এই খেলায় আমি তাই ২৪ বলের একটা ধাঁধা দেখতে পেয়েছি। এই ধাঁধার জট খুলতে হলে পেসারদের হতে হবে স্ট্রিট স্মার্ট।’
তিনি বলেন, ‘এই ধাঁধাকে সামনে রেখে পেসারদের নিয়ে আমি জোর দিয়ে কাজ করছি। আমি মনে করি এটি একটি ছোট পদক্ষেপ তবে গুরুত্বপূর্ণ। দল কি ধরণের তা নিয়ে আমি চিন্তা করি না। দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা ভালো শুরু করেছি। আজ শেষ ম্যাচটিতেও আমাদের ভালো করতে হবে। সেইসঙ্গে গত ম্যাচে আমরা দেখিয়েছি যে আমরা কতটা স্মার্ট হতে পারি। এছাড়া গত ম্যাচের মতো আজও বাউন্স ব্যাক করার আশা করছি।’
পেস বোলিং কোচ যোগ করে বলেন, ‘মঙ্গলবারের ম্যাচটি আমাদের জন্য অঘোষিত ফাইনাল। তাছড়া প্রথম ম্যাচের পিচে হবে খেলাটি। ম্যাচটা তাই দারুণ উপভোগ্যকর হবে বলেই আশা করছি।’
পেসারদের এই ব্যর্থতার সময়েওে হাসান মাহমুদের প্রতি দারুণ মুগ্ধ ডোনাল্ড। ডানহাতি এই পেসারের আন্তর্জাতিক অভিষেকটা হয়েছিল ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই। তবে ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন দলের বাইরে ছিলেন তিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, দেশের লিস্ট এ টুর্নামেন্টের মাধ্যমে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের আগে এক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন। ফের সেই জিম্বাবুয়ে দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন মাহমুদের। ২৬ রান দিয়ে ১ উইকেট পাওয়া পেসারের ফেরাটা মন্দ হয়নি।
প্রাক্তন দক্ষিণ আফ্রিকান ডোনাল্ড বলেন, আমি তার উপর বিশেষ মুগ্ধ হয়েছিলাম। শুনেছিলাম সে একদমই কিশোর। তার চরিত্র শান্ত-ভদ্র চরিত্রের আচরণ আমার খুব মনে ধরেছে। তাছাড়া মাঠে তার দুর্দান্ত দক্ষতাও। বাংলাদেশে দেড় বছরের অভিজ্ঞতায় মনে হয়েছে হাসান মাহমুদ খুবই প্রতিভাবান একটি ছেলে, কারণ তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমার বেশ ভালো লেগেছে।’