চট্রগ্রামের সীতাকুন্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল সলিমপুরের আলোচিত আলীনগরে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে শুরু করে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চালানো অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তবে অভিযান শেষে ফেরার পথে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুর নিয়ে সরকারের গৃহীত পরিকল্পনার অংশ হিসাবে মঙ্গলবার আলীনগরে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে শতাধিক অবৈধ দোকান ও বাড়ি-ঘর উচ্ছেদ করা হয়।
চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযানে বিপুলসংখ্যক র্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। এ ছাড়া অভিযানে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করেন।
অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্রগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস এম রসিদুল হক, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্রগ্রামের পরিচালক মফিদুল আলম, সীতাকুণ্ড উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাজমুল আহসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মাসুদ কামাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নু এমং মারমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীতাকুণ্ড সার্কেল আশরাফুল করিম ও ওসি আবুল কালাম আজাদ।
অভিযান চলাকালীন জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান বলেন, এখানে যত অবৈধ স্থাপনা আছে সব উচ্ছেদ করা হবে। সরকারের গৃহীত বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ খুব দ্রুত শুরু করা হবে। তবে যারা প্রকৃত অর্থে ভূমিহীন তাদের পুনর্বাসন করা হবে। ইতিমধ্যে আমাদের টিম সার্ভে শুরু করেছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের তালিকা করা হচ্ছে। তবে পাহাড়খেকোদের ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশ সুপার রসিদুল হক বলেন, পাহাড় কেটে যারা অপরাধ করেছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশের ক্যাম্প করা হবে।
তবে অভিযান শেষে ফেরার পথে পুরনো কৌশলে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখে এখানকার বাসিন্দারা। এখানে বসবাসকারী ছাড়াও আশেপাশের কয়েক শ নারী-পুরুষ সড়কে অবস্থান নেয়। এ কারণে বেশ কিছুক্ষণ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়িবহর আলীনগরের প্রবেশ মুখে আটকে থাকে। পরবর্তীতে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন।
এ প্রসঙ্গে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, এখানে অভিযানে গেলে সংঘবদ্ধ চক্র কিছু নারীকে দিয়ে একটা সিন ক্রিয়েটের চেষ্টা করে থাকে সবসময়। এবারও তারা এরকম করার চেষ্টা করেছে। তবে বল প্রয়োগ ছাড়াই আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।