সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে যাচ্ছিলেন নাসুম আহমেদ। পরিকল্পনায় একটু বদল এলো আর অমনি পারফরম্যান্সের পারদ নেমে যাচ্ছে এই স্পিনারের। কোনো সন্দেহ নেই টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সেরা বোলারদের একজন নাসুম। নতুন বলে দারুণ কার্যকর বলে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সুনাম কুড়িয়েছেন। কিন্তু তারও দুর্বলতা আছে। আর সেখানেই এখন মার খাচ্ছেন এ স্পিনার। একটু পুরনো বল কাজে লাগাতে খুব একটা পারেন না নাসুম। জিম্বাবুয়েতে দুই ম্যাচে একটু পুরনো বল তার হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু দুবারই ১০ ওভার পুরনো বলে রান খরচ করে হতাশ করলেন নাসুম।
কাল টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে লজ্জার রেকর্ড হজম করতে হলো তাকে। এই ফরম্যাটে ওভারে সবচেয়ে বেশি ৩৪ রান দিলেন এই বাঁহাতি। অল্পের জন্য ৬ ছক্কা হজমের লজ্জার রেকর্ড যে হয়নি তাতেই বাঁচা। সাকিবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি ছিল উইকেটের দিক থেকে। ছোট ফরম্যাটে ক্যারিয়ারের প্রথম ২০ ম্যাচে সাকিব উইকেট নিয়েছিলেন ২৩টি। নাসুম তাকে ছাড়িয়ে যান ২৬ উইকেট নিয়ে। দেশসেরা বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত এগিয়ে চলা মোস্তাফিজুর রহমানের চেয়েও খুব পিছিয়ে নেই নাসুম। শুরুর ২০ ম্যাচে ফিজ নিয়েছিলেন ২৯ উইকেট। নাসুম ২৩ ম্যাচে তুলেছেন ২৯ উইকেট। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ফ্রন্টলাইন বোলারদের মধ্যে সবার শেষে এসেও রান দেওয়ায় সবার ওপরে উঠে গেছেন সিলেটের এই তরুণ।
পুরনো বলে নাসুমের কার্যকারিতার অভাব। তাই টি-টোয়েন্টি ছাড়া অন্য দুই ফরম্যাটে সুযোগ হয় না এই বোলারের। গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ওয়ানডে) নতুন বলেই শুরুর ১০ ওভারের মধ্যেই করে ফেলতেন ৫ ওভার আর বাকি ১০ ওভারে তার কোটার ৮ বা পুরোটাই করিয়ে দেওয়া হতো বেশিরভাগ ম্যাচে। সবশেষ লিগে রূপগঞ্জ টাইগার্সের হয়ে খেলেছেন নাসুম। ওই দলের কোচ মিজানুর রহমান বাবুল এই তথ্য জানান। জিম্বাবুয়ের আগে নাসুম ক্যারিয়ারের ২১ ম্যাচে ইনিংসের প্রথম ওভারে বল করেছেন ৮ বার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বল করেছেন সমান ৮ বার। পরে বোলিংয়ে এসেছেন মাত্র ৫ বার। এই ৫ ম্যাচের গড়ের চেয়ে শুরুর দুই ওভারের মধ্যে বল করতে এসে নাসুমের গড় ভালো। এই সিরিজেও এমন অবস্থা। দ্বিতীয় ম্যাচে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে আসেন নাসুম। শুরুর ২ ওভারে ১৩ রান দেন। পরে ১০ ওভার পর বল করতে এসে বাকি দুই ওভারে হজম করলেন ২৫, (মোট ৩৮)। আর গতকাল তৃতীয় ম্যাচে ১৫তম ওভারে বল করতে এসে ৩৪ রান দিলেন নাসুম। রীতিমতো তুলোধুনো হলেন রায়ান বার্লের কাছে। এক ওভারে হজম করলেন ৫ ছক্কা, দিলেন ৩৪ রান।
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এক ওভারে সর্বোচ্চ রান হজমের রেকর্ডটা এতদিন ছিল মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। ২০১৭ সালে পচেফস্ট্রুমে তার এক ওভারে ৫ ছক্কা ও ১ সিঙ্গেলে ৩১ রান নেন ডেভিড মিলার। এছাড়া সাকিব দুবার দিয়েছেন ৩০ রান করে। ২০১৯ সালে এই রায়ান বার্লের কাছেই ৩টি করে ছক্কা আর চার হজম করেছিলেন তিনি। গেল বছর অস্ট্রেলিয়ার ড্যান ক্রিশ্চিয়ান এক ওভারে ৫ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন সাকিবকে। উইন্ডিজের বিপক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান দিয়েছিলেন রুবেল হোসেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ দিয়েছিলেন ২৮ রান। তবে শীর্ষে থাকা সাইফউদ্দিনকে সেই লজ্জা থেকে রেহাই দিয়ে ওই চেয়ারে বসলেন নাসুম।