জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের গেস্টরুমে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত এক সাংবাদিককে ডেকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী মারধর করেছেন অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার ওই সাংবাদিক হলেন- আল আমিন হোসাইন রুবেল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (৪৯তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী এবং একটি অনলাইন নিউজপোর্টালের বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগের কর্মীরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের আসাদ হক ও আরিফ জামান সেজান, অর্থনীতি বিভাগের জিয়াদ মির্জা, দর্শন বিভাগের মীর হাসিবুল হাসান রিশাদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের রাইহান বিন হাবিব, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মুনতাসির আহমেদ তাহরীম, আইন ও বিচার বিভাগের মাসুম বিল্লাহ (সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী) এবং রসায়ন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের জাহিদ হাসান। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
মারধরের শিকার রুবেল এবং অভিযুক্তরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে নিজের কক্ষে ফেরেন রুবেল। সে সময় হলের অতিথিকক্ষে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ‘গেস্টরুম’ করাচ্ছিলেন। সেখানে আল আমিনকে ডেকে নিয়ে নিজের ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচয় দিতে বলা হয়। আল আমিন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচয় দিতে না পারলে তাকে কক্ষের উপরের অংশের গ্রিল ধরে পাঁচ মিনিট ঝুলতে বলা হয়। পাঁচ মিনিটের আগেই গ্রিল থেকে নেমে গেলে তাকে টেবিলের নিচে মাথা দিতে বলেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এতে অস্বীকৃতি জানান আল আমিন।
একপর্যায়ে তার মুঠোফোন নিয়ে নেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। মুঠোফোনের লক খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে রুবেলকে মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেখানে যান। তারা রুবেল ও অভিযুক্তদের কথা শোনেন।
এ সময় অতিথি কক্ষে ডেকে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও মারধর করেননি বলে দাবি করেন আসাদ হক ও আরিফ জামান সেজান।
তারা বলেন, অতিথিকক্ষের কথাবার্তা রেকর্ড হচ্ছে কি না তা জানার জন্য তারা রুবেলের মুঠোফোন চেক করতে চেয়েছেন।
শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন বলেন, ‘যারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তারা আর ছাত্রলীগের কেউ না। সাংগঠনিক কাজকর্ম থেকে তাদের অবাঞ্ছিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম পরিচালনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে লিটন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নতুন কমিটি আসার পর থেকে হলগুলোতে গেস্টরুম হয় না বলেই জানেন তিনি।
এদিকে গত সোমবার ‘ভর্তি–ইচ্ছুকদের পাশে জাবি ছাত্রলীগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন করেন রুবেল।
ওই প্রতিবেদনের জন্য শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটনের বক্তব্য নেন তিনি।
বক্তব্য নেওয়ার সময় রুবেলের করা একটি প্রশ্নে ক্ষুব্ধ হন লিটনের সঙ্গে থাকা ছাত্রলীগের কর্মীরা। লিটনের সাক্ষাৎকার নেওয়া শেষে ছাত্রলীগের অন্য কর্মীরা রুবেলকে সেখানে নানাভাবে শাসান বলে জানা যায়।
গেস্টরুমে মারধরের ঘটনার বিষয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল্লাহেল কাফি জানান, তিনি বুধবার সকালে প্রাথমিকভাবে ঘটনা শুনেছেন। বিস্তারিত শুনে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে হল প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিবে সেটাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হবে।’