চলন্ত বাসে গণধর্ষণ ও ডাকাতি: লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন সেই নারী(ভিডিও)

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী নাইট কোচে উঠে যাত্রীদের হাত-পা চোখ বেঁধে মারধর, সম্পদ লুট ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী। ভোক্তভোগী ওই নারী এখন  টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে বিছানায় কাতরাচ্ছেন তিনি। 

মঙ্গলবার রাতে ঘটে যাওয়া সেই লোমহর্ষক ঘটনা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

ভোক্তভোগী ওই নারী বলেন, আমি মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঈগল পরিবহনের ঐ বাসে করে ঢাকা যাচ্ছিলাম। সিরাজগঞ্জের তিনটি আলাদা জায়গা থেকে বাসে ওঠে ডাকাত দল। ডাকাতি শুরুর আগে আমার পাশের খালি সিটে ডাকাতদের একজন বসতে চাইলে তাকে বসতে দিইনি। ডাকাতি শুরু করলে আমি তাদের বাধা দিয়েছিলাম। এ কারণে তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়।

তিনি বলেন, বাসচালকের কাছে গিয়ে তিনজন ডাকাত প্রথমে তাকে জিম্মি করে। চালকের গলায় ছুরি চেপে ধরে সিট থেকে উঠতে বলে। এক পর্যায়ে তারা চালককে বেঁধে ফেলে। এ সময় তারা আমার পাশের সিটে বসা হেলপারকে তুলে নেয়। আমার সঙ্গে বাক বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তারা আমার হাত-মুখ চোখ বেঁধে ধর্ষণ করে।

তিনি আরও বলেন, ডাকাতরা যার কাছে টাকা বেশি পেয়েছে তাকে কিছু বলেনি। সবার থেকে টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকারসহ সব কিছু ছিনিয়ে নেয়। একজন ডাক্তার দেখাতে যাচ্ছিলেন, ডাক্তার দেখানোর জন্য তার কাছে থাকা ৯ হাজার টাকাও তারা ছিনিয়ে নেয়।

এ ঘটনায় জড়িতদের আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। বিচার না হলে আজ আমার সঙ্গে যা ঘটেছে কাল আরেক নারীর সঙ্গে তাই ঘটবে। আমি ওদের ফাঁসি চাই। যাতে ওদের দেখে অন্যরা ভালো হয়ে যায় বলে তিনি জানান।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সাদিকুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যে ওই নারীর প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তবে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করে রিপোর্ট দিতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতে চিহ্ন রয়েছে বলেও ওই চিকিৎসক জানান।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, এ ঘটনায় বুধবার রাতেই মধুপুর থানায় মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজা মিয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ২৪ থেকে ২৫ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ পৌঁছালে সেখান থেকে একদল ডাকাত যাত্রীবেশে ওই বাসে ওঠে। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর যাত্রীবেশে থাকা ডাকাত দলটি অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের বেঁধে ফেলে। এ সময় দলটি বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। এক পর্যায়ে তারা বাসযাত্রী এক নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। বাসটি বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে তিন ঘণ্টা নিয়ন্ত্রণে রাখে। পরে পথ পরিবর্তন করে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালির স্তুপে বাসটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।