বশেমুরবিপ্রবির ছাত্রী হলের সিট ‘দখল’ নিয়ে পাল্টাপাল্টি

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শেখ রেহেনা হলে ‘সিট দখল’ ও নিরাপত্তা চেয়ে প্রভোস্ট বরাবর পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কয়েকজন ছাত্রী। দুটি অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে উঠে আসে নানা অভিযোগ। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রথমে ওই ছাত্রী প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।  

জানা গেছে, গত ৩১ জুলাই করা অভিযোগ এক ছাত্রী লিখেছেন, তিনি তিন বছর ধরে শেখ রেহেনা হলের গণরুমে ছিলেন। পরে তিনি একটি কক্ষে বরাদ্দ পান। কিন্তু তার সিটে অর্থনীতি বিভাগের অভিযুক্ত ওই ছাত্রী পরীক্ষা ও বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে অবস্থান করছিলেন। পরে হলটির প্রভোস্ট ২৯ জুলাই সিটে উঠতে বলেন তাকে। সে অনুযায়ী তিনি অধিকাংশ জিনিসপত্র ওই রুমে রাখেন। 

অভিযোগপত্রে তিনি আরো লেখেন, অভিযুক্ত ওই ছাত্রী তাকে রুমে ডেকে বলেন, ‘ভিসি স্যার বা প্রভোস্ট স্যার না নামতে বললে আমি এ সিট থেকে নামব না। আপনি স্যারের কাছে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন তারপর আমি হ্যান্ডেল করব’।

অভিযুক্ত ছাত্রী আরো বিভিন্ন ধরনের ‘আপমানজক ও ক্ষমতার প্রয়োগ সংক্রান্ত কথা’ বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। 

ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা চেয়ে অন্য আরেকটি অভিযোগ করেন একই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযোগপত্রে জানান, এ কক্ষে অর্থনীতি বিভাগের অভিযুক্ত ছাত্রী সর্বদা আবাসিক শিক্ষার্থীদের হেনেস্তা করে আসছেন। ফোনে কথা রেকর্ডিং করছেন যা তাদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। এ ছাড়া কথায় কথায় ক্ষমতা প্রয়োগেরও হুমকি দেন ওই ছাত্রী।

এর আগে গত ২০ জুন অর্থনীতি বিভাগের ওই ছাত্রী ‘সাম্প্রদায়িকতা’ ও ‘র‌্যাগিংয়ের’ অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি অভিযোগ দেন।

জানা গেছে, প্রক্টর দপ্তর এক মাস পর গত ২১ জুলাই তার অভিযোগ গ্রহণ করেন। 

ওই অভিযোগে তিনি জানান, কক্ষে আসার পর থেকে আবাসিক সদস্যরা তার সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ করেনি। নানা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে তাকে র‌্যাগ দেন। রুমে ধর্ম চর্চায় স্বাধীনতা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। তার সিটের অংশে লোকচক্ষুর আড়ালে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ছবি রাখা হলে অন্যরা তা নিয়ে আপত্তি জানান। 

জানা গেছে, গত কোরবানির ঈদের আগে হল প্রভোস্ট মো. রোকনুজ্জামান, সহকারী হল প্রভোস্ট ইসরাত জাহান দিনা, মাহাবুবা উদ্দিন ওই কক্ষের সবার সঙ্গে বসে সমাধান করে দেন। পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রভোস্ট বরাবর কোনো অভিযোগ আসেনি।

এ বিষয়ে প্রভোস্ট মো. রোকনুজ্জামান জানিয়েছেন, অর্থনীতি বিভাগের ওই ছাত্রীর কক্ষে থাকা নিয়ে সাম্প্রদায়িক কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাকে সাময়িকভাবে উপাচার্যের নির্দেশে ২৮ জুলাই পর্যন্ত হলে থাকতে বলা হয়।  এরপর আমি একজন সহকারী হল প্রভোস্টসহ বিষয়টি সমাধান করতে গেলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দিতে থাকে। এ ঘটনার পর ওই ছাত্রীকে অন্য কক্ষে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার নতুন কক্ষে যেতে বলে প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করে চলে আসি। পরে জানতে পারি সে হলের সিট ছাড়েনি।

তবে অভিযুক্ত ওই ছাত্রী জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ মিথ্যা।

ক্যাম্পাসের একজন সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করলে তার বিরুদ্ধে থানায় জিডি করার হুমকি দেন তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমানকে ফোনে দুদিন ধরে একাধিকবার কল করলে তিনি কল রিসিভ করেন নি। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একিউএম মাহবুব বলেন, ‘হলের ঘটনা নিয়ে তোমরা কিছু লেখালেখি করো না’।