তেল কিনতে ভিড়: পাম্প বন্ধ, কোথাও অবরোধ

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির খবরে শুক্রবার রাতেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন গ্রাহকরা। কোথাও বিক্ষোভও হয়েছে।

ক্রবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে নতুন দাম ঘোষণা করেছে সরকার। এ খবর পাওয়ার পর মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে গ্রাহকরা তেলের পাম্পে ভিড় করতে শুরু করেন।

রাজধানীতে দেখা গেছে, পাম্প মালিকরা রাত ১২টার আগে তেল বিক্রি করতে রাজি হচ্ছেন না। তারা রাত ১২টার পর নতুন নির্ধারিত মূল্যে তেল বিক্রি করতে আগ্রহী।

রাজধানীর বনশ্রী এলাকার এইচটিএস ফিলিং স্টেশনে রাত ১১টায় দেখা যায়, তেলের জন্য কয়েক'শ মোটরসাইকেল দীর্ঘ লাইন। তবে, পাম্পের কর্মীরা তেল বিক্রি করছেন না, এমনকি তাদের দেখাও পাওয়া যায়নি।

উত্তেজিত হয়ে মোটরসাইকেল চালকরা পাম্পের ম্যানেজারকে তার রুম থেকে বের করে নিয়ে এলে তিনি বলেন, 'মালিক নিষেধ করেছেন, তাই তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছি।'

পরে মোটরসাইকেলচালকদের চাপে রাত ১১টা ৩৭ মিনিট থেকে তেল দিতে বাধ্য হন পাম্প ম্যানেজার। তবে, দীর্ঘ লাইন দেখে অনেককে তেল না নিয়ে চলে যেতেও দেখা গেছে।

জানা গেছে, রাত সাড়ে ১০টা থেকেই তারা তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন পাম্পে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। 

সিলেটে পাম্পগুলো রাত ১২টা বাজার আগেই বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন মোটরসাইকেলচালকরা। 

সিলেট প্রতিনিধ জানান, কয়েকটি জ্বালানি তেল বিক্রি করা পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, আলো নিভিয়ে কর্তৃপক্ষ চলে গেছে। পাম্পগুলোতে কয়েক শ মোটরসাইকেলের লাইন। চারটি পাম্পের একটিতে রয়েছেন পুলিশ সদস্যরা।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধ জানান, নগ‌রের দুই নম্বর গেটের পলিটেকনিক এলাকার সেনা ফি‌লিং স্টেশনে রা‌ত সা‌ড়ে ১১টার দি‌কে দেখা যায়, কমপক্ষে ২০০ মোটরসাইকেলচালক তেল কেনার অপেক্ষায়। এ ছাড়া ৫০টির মতো ব‌্যক্তিগত গা‌ড়ি ও মাইক্রোবাস অপেক্ষায় রয়েছে।

জানা গেছে, পেট্রল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় সাতক্ষীরা শহরের এ বি খান পেট্রলপাম্পের সামনে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন মোটরসাইকেলের চালকেরা। রাত সোয়া ১১টার দিকে তাঁরা রাস্তা অবরোধ করলে ১৫ মিনিট পর পুলিশ এসে তাঁদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়।

গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় সব ফিলিং স্টেশন শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন দুই শতাধিক গ্রাহক।