দীর্ঘসময় দাঁড়িয়েও সড়কে বাসের দেখা পাচ্ছেন না যাত্রীরা

গতরাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এর প্রভাবে আজ শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর সড়কে বাস চলাচল কম।

দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের দেখা পাচ্ছেন না যাত্রীরা।

সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির মধ্যে শত শত মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন বাসের অপেক্ষায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর কোনো কোনো রুটে একটি বাস এলেও সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন অনেক বেশি মানুষ। বাসগুলো আগে থেকে যাত্রীতে পরিপূর্ণ থাকায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে বাসগুলোতে কেউ উঠতে পারছেন না।

রাজধানীর মিরপুর, রায়েরবাগ, মাজার রোড ও টেকনিক্যাল মোড়, যাত্রাবাড়ি, রামপুরা ব্রিজ এলাকায় এই পরিস্থিতি দেখা গেছে।

দীর্ঘ সময় পর টেকনিক্যাল মোড়ে মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে সদরঘাট পথে চলাচলকারী তানজিল পরিবহনের একটি বাস আসে। আগে থেকেই যাত্রী পাদানিতে দাঁড়ানো। তারপরও কয়েকজন ঠেলে ও ধাক্কা দিয়ে উঠে যান।

প্রতিদিন দিশারী পরিবহনের ৬০টি বাস চলে। আজ চলছে ১০টি বাস।

এই পরিবহনের একজন কাউন্টার চেকার বলেন, সরকার আগে বাসভাড়া ঠিক না করে তেলের দাম বাড়ানোতেই সমস্যা। পাম্পে গিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

বাসের অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এক যাত্রী বলেন, কোনো শনিবারে গণপরিবহনের এমন সংকট দেখিনি। ১ ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি কোনো বাসে উঠতে পারছি না।

গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা থেকে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার বাংলাদেশ প্রেট্টোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), ইস্টার্ণ রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পরিশোধিত এবং আমদানি/ক্রয়কৃত ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্টোলে মূল্য সমন্বয় করে ভোক্তা পর্যায়ে পুণঃনির্ধারণ করেছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের ভেতর ভোক্তাপর্যায়ে খুচরা মূল্য ডিজেল প্রতি লিটার ১১৪ টাকা, কেরোসিন প্রতি লিটার ১১৪, অকটেন প্রতি লিটার ১৩৫ ও পেট্টোল প্রতি লিটার ১৩০ টাকায় বিক্রি হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উর্ধ্বগতির কারণে পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত তেলের মূল্য সমন্বয় করে থাকে। ভারত ২২ মে থেকে কলকাতায় ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটার ৯২.৭৬ রুপি এবং পেট্রোল লিটার প্রতি ১০৬.০৩ রুপি নির্ধারণ করেছে যা এখনো বিদ্যমান আছে। এই মূল্য বাংলাদেশি টাকায় যথাক্রমে ১১৪.০৯ টাকা এবং ১৩০.৪২ টাকা। (১ রুপি=গড় ১.২৩ টাকা)। অর্থাৎ বাংলাদেশে কলকাতার তুলনায় ডিজেলের মূল্য লিটার প্রতি ৩৪.০৯ এবং পেট্টোল লিটার প্রতি ৪৪.৪২ টাকা কমে বিক্রয় হচ্ছিল। মূল্য কম থাকায় তেল পাচার হওয়ার আশঙ্কা থেকেও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়া সময়ের দাবি।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বারিধারার বাসায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, দেশে আবার তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে। বিশ্ব বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম আবারও সমন্বয়ের কথা ভাবছে সরকার।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের ব্যাপারে আমরা অপেক্ষায় আছি, গ্যাসের ব্যাপারে আমরা আরেকটা সমন্বয়ে যেতে চাচ্ছি এবং আমরা মনে করছি, তেলেরও একটা সমন্বয় হওয়া উচিত।