দাউদকান্দিতে বাবার বিরুদ্ধে শিশুকে হত্যার অভিযোগ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বাবার বিরুদ্ধে পাঁচ মাসের ছেলেকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আরফাত মারা যায়।

নিহত আরফাত হোসেন উপজেলার চেংগাতলী গোলাপেরচর গ্রামের বিপ্লব মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই বিপ্লব মিয়া রাতে দেরি করে বাসায় আসায় স্ত্রী আসমা আক্তারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাগে স্ত্রীর কোলে থাকা আরফাতকে বাবা বিপ্লব মেঝেতে আছড়ে ফেলেন।

পরদিন ৩০ জুলাই সকালে শিশুটিকে তার নানার বাড়ির লোকজন এসে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়। চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন হলে শিশুর বাবাকে বললে টাকা আনার কথা বলে আর আসেননি।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু আরফাত মারা যায়।

খবর শুনে বাবা বিপ্লব মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফারুক জানান, দেড় বছর আগে সদর উত্তর ইউনিয়নের ভাজরা গ্রামের বাছির মিয়ার মেয়ে আসমা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি গ্রামের খসরু মিয়ার ছেলে বিপ্লব মিয়ার।

গত ২৯ জুলাই রাতে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে কলহে শিশুটিকে তার বাবা মেঝেতে আছড়ে দেয় বলে শুনেছি। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে শিশুটি মারা যায়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আলমগীর ভূইয়া বলেন, শনিবার রাতেই থানায় তারা লাশ নিয়ে থানায় এসে শিশুটি বাবার নামে হত্যার মৌখিক অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মো. ফয়েজ ইকবাল বলেন, যেহেতু শিশুটির চিকিৎসাপত্রে নিউমোনিয়া জ্বরের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই রবিবার সকালে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্টে হত্যার আলামত পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।