ধর্ষণের পর বিবস্ত্র করে বাস থেকে ফেলে দিতে চেয়েছিল ধর্ষকরা

গাজীপুরের শ্রীপুরে তাকওয়া পরিবহনের একটি মিনিবাসে এক নারী ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচজন গ্রেপ্তারের পর বের হলো লোমহর্ষক বর্ণনা। পালাক্রমে ধর্ষণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষকের দল ওই নারীকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় ফেলে দিতে চেয়েছিল। মানুষের সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ার লজ্জায় সংঘবদ্ধ ধর্ষকদের হাতে-পায়ে ধরে কাপড় চেয়ে নেয় ধর্ষণের শিকার নারী।

এমনই লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ধর্ষণের পর উদ্ধার হওয়া নারীর স্বামী। তারা নওগাঁ থেকে গাজীপুরে আসেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। 

ধর্ষণের শিকার নারী ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ নিলে দুপুরে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। ডাক্তারি পরীক্ষায় নারীর ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে বিকেল ৫টায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা পুলিশ সুপার এস এম সফিউল্লাহ প্রেস ব্রিফিং করেন।

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী জানান, আমরা গাজীপুর বাইপাস থেকে তাকওয়া পরিবহনের একটি মিনিবাসে উঠে পড়ি। পরে বাসটি বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী তোলে। এ সময় আবার বিভিন্ন স্থানে যাত্রী নামেও। মাওনা আসার পথে রাজেন্দ্রপুরে সর্বশেষ যাত্রী নেমে পড়ে। এ সময় শুধু আমি ও আমার স্ত্রী ছিলাম বাসে। তবে বাসের স্টাফ ছিল। বাসটি গড়গড়িয়া মাসটার বাড়ি এলাকা অতিক্রম করতেই আমাকে কজন মিলে বেদম মারধর করতে থাকে। এ সময় আমাদের কাছে থাকা টাকাপয়সা লুট করে তারা। আমার স্ত্রী প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করে। কিছুক্ষণ পর আমাকে বাস থেকে জোর করে ধাক্কা দিয়ে নামিয়ে দেয়।

তিনি তার স্ত্রীর বরাত দিয়ে আরো বলেন, বাসে স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর তার সব কাপড় খুলে তাদের কাছে রেখে বিবস্ত্র অবস্থায় মহাসড়কের এক অন্ধকার স্থানে ফেলে দিতে চেয়েছিল ধর্ষকরা। কিন্তু আমার স্ত্রী মানুষের সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ার লজ্জায় তাদের কাছে কাকুতি-মিনতি করে হাত-পা ধরে তার কাপড়চোপড় চেয়ে নেয়। পরে তাকে রাজেন্দ্রপুর ওভার ব্রিজের কাছে নামিয়ে চলে যায় ধর্ষক দল।

এ দিকে ঘটনার পরই ভুক্তভোগীর স্বামী সহযোগিতা চাইলে পুলিশ বিভিন্ন বিভাগ দিনভর অভিযানে নামে। এ সময় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় শনিবার ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ দিকে গ্রেপ্তারকৃতদের বিস্তারিত পরিচয় পুলিশ উদ্ধার করেছে। তারা হলো নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার দরিপাড়া এলাকার রাকিব হোসেন মোল্লা(২৩), নেত্রকোনা সদরের গুপিরঝুপা গ্রামের সুমন খান (২০), ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠালকাচারি গ্রামের সজিব মিয়া (২৩), একই জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার বিলডোলা গ্রামের শাহীন আলম (১৯) ও খুলনার রূপসা থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের সুমন হাসান (২২)।

শ্রীপুর মডেল থানার ওসি অপারেশন আনিসুল আশেকীন জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষণে শিকার নারীর স্বামী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার এস এম সফিউল্লাহ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজন স্বীকার করেছে ধর্ষণের বিষয়টি। গ্রেপ্তারদের ওই নারীর মুখোমুখি করলে নারীও এ পাঁচজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা তাকওয়া পরিবহনের বাসটি জব্দ করেছি। এ ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত নয়। একই পেশার হওয়ায় সকালে তিনজন পরিবহন শ্রমিক নিজেদের কাজে যোগ দেবে এমন প্রস্তুতিতে ওই বাসে ওঠে। সকালেই তারা তাদের নিজ নিজ বাসে কাজে যোগ দিত। পরে তারা ওখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। এটা আকস্মিক ঘটনা। 

তিনি বলেন, নারীর স্বামী গার্মেন্টস কর্মী আর নারী গৃহিণী। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার মাধ্যমে অভিযানে কাজ করেছি। পুলিশে বিভিন্ন ইউনিটের একাধিক টিম অভিযান করেছে।

তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের আগের কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড আমরা পাইনি। ঘটনাস্থল শ্রীপুর হওয়াতে মামলা শ্রীপুর থানায় রুজু করা হয়েছে।