সেবা প্রকাশনীর গোয়েন্দা রহস্য উপন্যাস ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের ২৬০ এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৫০ বইয়ের লেখক হিসেবে শেখ আবদুল হাকিমকে স্বত্ব দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি পেয়েছেন কাজী আনোয়ার হোসেনের উত্তরাধিকারীরা। একই সঙ্গে এ দুই সিরিজের বই বিক্রিতে স্থিতাবস্থা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
কাজী আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে ও নাতনির করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি) মঞ্জুর করে সোমবার প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
২০২০ সালের ২৯ জুলাই ‘মাসুদ রানা’ এবং ‘কুয়াশা’ সিরিজের ৩১০টি বইয়ের লেখক হিসেবে স্বত্ব বা মালিকানা দাবি করে সেবা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কাজী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কপিরাইট আইনের ৭১ ও ৮৯ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ দেন শেখ আব্দুল হাকিম।
তার দাবি ছিল, ২৬০টি মাসুদ রানা বইয়ের মধ্যে একটি এবং কুয়াশার ৫০টি বইয়ের মধ্যে ছয়টিতে লেখক হিসেবে তার নামে কপিরাইট করা আছে। এসব বইয়ের লেখক হিসেবে শেখ আবদুল হাকিমকে স্বত্ব দিয়ে গত বছরের ১৪ জুন সিদ্ধান্ত দেয় কপিরাইট অফিস। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন কাজী আনোয়ার হোসেন। গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্ত এক মাসের জন্য স্থগিত করে রুল দেয় হাইকোর্ট।
রুলে এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় কপিরাইট অফিসের ওই সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর রুল খারিজ এবং কপিরাইট অফিসের সিদ্ধান্তের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করে রায় হয়।
পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন কাজী আনোয়ার হোসেনের উত্তরাধিকারীরা।
গত বছরের ২৮ আগস্ট মারা যান শেখ আবদুল হাকিম। গত ১৯ জানুয়ারি মারা যান কাজী আনোয়ার হোসেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুরাদ রেজা ও এ বি এম হামিদুল মিজবাহ। রেজিস্ট্রার অব কপিরাইটসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।
অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে দুই সিরিজের বই বিক্রিতে স্থিতাবস্থা দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আর কপিরাইট অফিসের যে সিদ্ধান্ত ছিল সেটি স্থগিত করেছেন আদালত।’
হামিদুল মিজবাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের লিভ টু আপিল গ্রহণ করেছেন আদালত। এখন আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ দুই সিরিজের বই বিক্রিতে স্থিতাবস্থা থাকবে।’