সুন্দরবনে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণে বাঁচল যুবক

সুন্দরবনের একটি খালে গোসল করতে নেমে কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে প্রাণে বেঁচে ফিরে এসেছেন অনার্স পড়ুয়া এক যুবক। 

মঙ্গলবার (০৯ আগস্ট) দুপুরে সুন্দরবনের ঢাংমারী খালে গোসল করতে নামলে একটি কুমির আক্রমণ করে রাজু হাওলাদার নামের এক যুবককে। এরপর ধস্তাধস্তি ও চোখে আঙুল দিয়ে কুমিরটিকে দুর্বল করে প্রাণে বেঁচে ফিরেন তিনি।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের (মোংলা) ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তা মো. সাইফুল বারী জানান, সুন্দরবনের ঢাংমারী খালে মঙ্গলবার দুপুরে গোসল করতে নামেন পূর্ব ঢাংমারী এলাকার খ্রিস্টান পাড়ার বাসিন্দা নজির হাওলাদারের ছেলে রাজু হাওলাদার। খালে গোসল করতে নামতেই একটি কুমির তার ওপর আক্রমণ করে। এ সময় কুমিরটি রাজুর ডান পায়ের হাটুর উপরের দিকে কামড়ে ধরে। তখন রাজু কুমিরটির সঙ্গে ধস্তাধস্তি করার এক পর্যায়ে কুমিরের চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দেয়। কুমিরের চোখে আঘাত করলে কুমিরটি রাজুর পায়ের কামড় ছেড়ে দেয়। তখন সে দ্রুত উপরে উঠে আসে। আর কুমিরটি খালে ডুব দিয়ে চলে যায়। 

তিনি বলেন, কুমিরের কামড়ে রাজুর পায়ের ক্ষত জায়গায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সে এখন সুস্থ ও বাড়িতে আছেন। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় খালে ভাটা থাকায় পানি কম ছিলো, ভরা জোয়ার থাকলে কুমির কামড়ে ধরে পানির গভীরে নিয়ে গেলে বাঁচার কোন সম্ভাবনাই থাকতো না। 

এই বন কর্মকর্তা জানান, পূর্ব সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার দাকোপ উপজেলার বানীশান্তা ইউনিয়নের পূর্ব ঢাংমারী এলাকার খ্রিস্টান পাড়ার বাসিন্দা নজির হাওলাদারের ছেলে রাজু খুলনার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনার্সে পড়েন। তাদের বাড়ি পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী খালের পাশেই। বাড়ির লোকজন রাজুকে খালে নেমে গোসল করতে নিষেধ করে। তারপরও সে নিষেধ না মেনে খালে গোসল করতে নামলে এ ঘটনা ঘটে। 

বন কর্মকর্তা মো. সাইফুল বারী বলেন, ঢাংমারী খালে প্রায় সময়ই বড় বড় দুইটি কুমির দেখা যায়। তাই বনবিভাগের পক্ষ থেকে খালের পাড়ের আশপাশের মানুষদেরকে খালে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে প্রতিনিয়তই। তারপরও অনেকে নিষেধ অমান্য করে খালে গোসল ও মাছ ধরতে নামে। যার ফলে মাঝে মধ্যেই এমন দুর্ঘটনার শিকার হন এখানকার মানুষেরা।