প্রথম ম্যাচে তিনশ ছাড়িয়েও আসেনি জয়। দ্বিতীয় ম্যাচে তিনশোর কাছাকাছি। সেখান থেকেও হার নিয়ে ফিরতে হয় টাইগারদের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সংগ্রহ আরও কম। শুরুতে আনামুল হক বিজয় ও শেষে আফিফ হোসেনের কার্যকরি ইনিংসে স্বাগতিকদের ২৫৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে টাইগাররা।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই সিরিজে টস ভাগ্যে জেতা হয়নি বাংলাদেশের। সিরিজের শেষ ম্যাচেও টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে সফরাকারিরা। বিজয়কে সঙ্গে নিয়ে শুরুটা ইতিবাচকই করেছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তবে ভুল বুঝাবুঝিতে রান-আউট হয়ে ফিরে যান তামিম। ৪১ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
তামিমের বিদায়ের পর যেন দিশেহারা হয়ে যায় টাইগার ব্যাটিং লাইন আপে। পরের ওভারেই শান্ত ও মুশফিকের উইকেট হারাতে হয়। দুজনেই আউট হয়েছেন ইভান্সের শর্ট বলে কাট করতে গিয়ে। কেউই খুলতে পারেননি রানের খাতা। পাওয়ার প্লেতে ৪৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই চাপ রিয়াদকে নিয়ে সামলে উঠেন বিজয়।
এক প্রান্তে বিজয় দু হাত খুলে খেলতে থাকেন। বাড়ানোর চেষ্টায় ছিলেন রানরেট। কিন্তু অন্যপ্রান্তে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ছিলেন মন্থর। গত ম্যাচের মতোই যেন ধুকছিলেন তিনি। তবে এর মাঝেই আলো ছড়িয়ে দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি শট খেলেন বিজয়। তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি। ৪৮ বলে ফিফটি ছোয়া বিজয় থামেন ৭৬ রানে। ৭১ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। আজও তার স্ট্রাইক রেট টাইগার ব্যাটারদের মধ্যে সবার চেয়ে বেশি।
বিজয়ের বিদায়ে কিছুটা শঙ্কার মেঘ উকি দিয়েছিল। কিন্তু আফিফ যেন সেখানে মেঘ ভেদ করে সূর্য হয়ে আলো ছড়ান। রিয়াদ তখন যেন একটু হাত খুলতে শুরু করেন। কিন্তু আফিফ শুরু থেকেই আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি সামলে রান তুলেছেন বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। ৬৯ বলে ৩ চারে ৩৯ রানের সাজানো রিয়াদের ইনিংসটি থামে। মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি চার মারলেও ২৪ বলে ১৪ রান করে ফিরে যান।
ব্যাটারদের এমন আশা যাওয়ার মাঝেও আফিফ এক প্রান্ত ঠিকই আগলে রাখেন। তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতক। শেষ পর্যন্ত ৮৫ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ৬ চার ও ২ ছক্কায় সাজিয়েছিলেন ইনিংসটি। শেষ মুহূর্তে কেউই তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। বাংলাদেশকে তাই থামতে হয়েছে ২৫৬ রানে। হারাতে হয় ৯ উইকেট।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ইভান্স ও জঙ্গুয়ে নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া এনগারাভা ও সিকান্দার রাজা নেন একটি করে উইকেট। ২৫৭ রানের লক্ষ্যে একটু পর মাঠে নামবে স্বাগতিকরা। সিরিজ জয় শেষে যাদের লক্ষ্য এখন হোয়াইওয়াশ, তবে বাংলাদেশের লক্ষ্য সেই লজ্জা এড়ানো।