ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ দোনেৎস্ক এর পুরোটা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে রাশিয়া। এ মুহূর্তে দোনেৎস্কের পিসকি শহরের উপকণ্ঠে ইউক্রেনীয় ও রুশ বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক লড়াই চলছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। এরপর পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে অভিযান চলমান রয়েছে। অভিযানে রুশ সেনারা এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের এক পঞ্চমাংশ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। তবে রাশিয়ার প্রধান টার্গেট পূর্ব-ইউক্রেনের ডনবাস (লুহানস্ক ও দোনেৎসস্ক) অঞ্চলের পুরোটা এখনও দখলে আসেনি। লুহানস্ক পুরোটা দখলের পর এবার দোনেৎস্ক এর পুরোটা দখলের লড়াই শুরু করেছে রাশিয়া।
বৃহস্পতিবার পুরো দোনবাস দখলে জোর অভিযান শুরু করেছে পুতিন বাহিনী। এ অভিযানে রুশ বাহিনীর সহায়তায় ডনবাসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দোনেৎস্কের প্রাদেশিক রাজধানীর অন্তত ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ পিসকি শহর দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে রুশপন্থি বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধারা।
পিসকি শহরে সবশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে বৃহস্পতিবার দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের কর্মকর্তা দানিল বেজসনোভ বলেন, পিসকির পরিস্থিতি এখন গরম। শহরটি এখন আমাদের দখলে। কিন্তু শহরের উত্তর ও পশ্চিমে কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ইউক্রেনীয় সেনারা প্রতিরোধ করার চেষ্ট করছে’।
পিসকি শহরের দখলের এ দাবি নাকচ করেছে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক প্রদেশ নিয়ে গঠিত ডনবাস অঞ্চল। কিয়েভ দখলে ব্যর্থ হওয়ার পর এই অঞ্চলের পুরোটা দখল নেওয়া রাশিয়ার মূল লক্ষ্য হয়ে ওঠে। লুহানস্কের প্রায় পুরোটা এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু দোনেৎস্কের কিছু এলাকায় এখনও লড়াই চলছে।
লুহানস্কের আঞ্চলিক গভর্নর সেরহাই গাইদাই ইউক্রেনীয় টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, রাশিয়া ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সংখ্যক ভাড়াটে যোদ্ধা পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এক সময় ইউক্রেনের শান্তিপূর্ণ শহর ছিলাম। এখন হাঁসফাঁস করছি…। শহরের লোকজন পালিয়ে যাচ্ছে’।
ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত ২৪ সপ্তাহে গড়িয়েছে। উভয় পক্ষই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কেউই এতটুকু ছাড় দিতে চাইছে না। ইউক্রেনীয় সেনারা ডনবাস অঞ্চলে প্রতিরোধের লড়াইয়ের পাশাপাশি রুশ অধিকৃত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী খেরসন পুনরুদ্ধারে পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে। তবে সবশেষ খবর অনুযায়ী, খেরসনে উল্লেখযোগ্য তেমন অগ্রগতি করতে পারেনি তারা।
গত দুই সপ্তাহে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী নিপ্রো নদীর ওপর কয়েকটি ব্রিজ বোমা মেরে ব্যবহার অনুপযোগী করে দিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বলছেন, আস্তে আস্তে খেরসান নগরী ঘিরে ফেলছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই খেরসন পুনর্দখলের প্রত্যাশা করছে তারা।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর একজন সিনিয়র কমান্ডার জানিয়েছেন, এ বছর শেষ হওয়ার আগে খেরসন পুনর্দখলের লক্ষ্য ঠিক করেছেন তারা। গত মার্চ থেকে রুশ বাহিনীর দখলে রয়েছে খেরসন। খেরসন লড়াইয়ে ইউক্রেনের বাহিনী সফল হলে সেটি হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এ পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
খেরসন পুনর্দখলের ব্যাপারে গণমাধ্যম আরবিসি ইউক্রেনকে সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল দিমিত্রো মারচেনকো বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমি আপনাকে নির্দিষ্ট সময় বলতে পারব না। কিন্তু খেরসনের জনগণকে আমি জানাতে চাই, এটি (খেরসনকে স্বাধীন করা) এত সময় নেবে না, যতটা সবাই ভাবছেন। এটি দ্রুত হবে’। খেরসন ছাড়াও ক্রিমিয়া, লুহানস্ক ও দোনেৎস্কও রুশ দখলমুক্ত করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই ইউক্রেনীয় সেনা কর্মকর্তা।