জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণের খবর দেশি গণমাধ্যমে যথাযথ আসেনি বলে অভিযোগ বিএনপির।
তারা বলছে, বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকা এ সমাবেশের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।
দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিগত ১৪ বছর ধরে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি খুন, গুম, হামলা-মামলা, নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হওয়ার পরও নেতাকর্মীরা হতাশ নন। তারা সংঘবদ্ধ হচ্ছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হয়েছে। বৃহস্পতিবারের সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি তারই প্রমাণ।’
তারা বলেন, ‘সরকারের অপশাসনে অতিষ্ঠ জনগণের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। যেখানেই সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি থাকে সেখানেই তারা হাজির হচ্ছেন। তারা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি চান। বিশেষ করে হরতাল, অবরোধের কঠোর কর্মসূচি চান।’
তারা আরো বলেন, ‘আমাদের বড় ধরনের সমাবেশের সংবাদ জাতীয় গণমাধ্যমে যথাযথভাবে আসেনি। এতে প্রমাণ হয়েছে, এতদিন আমরা যা বলে এসেছি তা সত্য বলে প্রমাণ হয়েছে। অথচ ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা ও বিবিসি গুরুত্ব দিয়ে আমাদের সংবাদ প্রচার করেছে।’
এ ছাড়া সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমেও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দেশি গণমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
তারা বলেন, দীর্ঘ দিন পর এত বড় কর্মসূচি করলাম কিন্তু গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়নি। কেউ কেউ এ জন্য সরকরাকে দায়ী করেন।
বিএনপির বৃহস্পতিবারের সমাবেশ নিয়ে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা 'তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ, বিএনপির সভায় স্তব্ধ ঢাকা' এ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
একে নিজস্ব প্রতিবেদন হিসেবে উল্লেখ করে তারা লেখে, 'গত শুক্রবার সরকার বিভিন্ন জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পর থেকেই বাংলাদেশে একের পর এক বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছে। বিরোধী দল বিএনপি এই পরিবেশে নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার তারা ঢাকার নয়া পল্টনে যে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল, বিপুল লোক সমাগমে তা কার্যত গোটা রাজধানী শহরকেই অচল করে দেয়।'
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, 'এ দিন বেলা ২টোয় বিএনপি সভা ডাকলেও তার আগে থেকেই হাজার হাজার মানুষ সভাস্থল ভরিয়ে তোলেন। আশপাশের রাস্তাও ভিড়ে অচল হয়ে পড়ে। এর আগে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়ে গত বছরের ২০ নভেম্বরে সমাবেশ করেছিল বিএনপি। তার পর থেকে তাদের আর আন্দোলনে দেখা যায়নি। এ দিনের সভার ভিড় আগের সমাবেশকে বহু গুণে ছাপিয়ে যায়। সোমবার বিএনপির যুব সংগঠন একই জায়গায় যে সভা করে, তাতেও লোক হয়েছিল নেতাদের প্রত্যাশা ছাপিয়ে। এ দিনের ভিড়ে উৎসাহী হয়ে সরকারের ইস্তফা চেয়ে ২২ অগস্ট থেকে জেলা স্তরে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিএনপির নেতৃত্ব।'
এর আগে ৯ আগস্ট তাদের আরেক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, 'বিএনপি-র সভায় নজরকাড়া ভিড়, বিক্ষোভ ঢাকায়'।
বৃহস্পতিবারের সমাবেশ নিয়ে বিবিসি বাংলার শিরোনাম ছিল, 'বিএনপি: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিরোধী দলের সমাবেশ থেকে সরকারের পদত্যাগের ডাক'।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, 'ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল এবং ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলো থেকেও বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী নয়া পল্টন এলাকায় দলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ঐ সমাবেশে হাজির হয়। বিএনপি কার্যালয়ের সামনের সড়ক এবং লাগোয়া সড়কগুলো ছিল মানুষে ঠাসা।
আমাদের সংবাদাদাতা বলছেন, সমাবেশে যোগ দিতে আসা অনেক মানুষ তাকে বলেছেন তারা দলের কাছ থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি চান।
জ্বলানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর পর আগামি কদিনে বিএনপি জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ করবে।'