যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ছুরিকাহত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সালমান রুশদি ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার এজেন্ট অ্যান্ড্রু ওয়াইলি।
তিনি বলেন, লেখক সালমান রুশদির ‘খবর ভালো নয়’। তিনি কথা বলতে পারছেন না, সম্ভবত একটি চোখ হারাতে পারেন। তার বাহুর স্নায়ু বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং লিভার ছুরিকাঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার (১৩ আগস্ট) এক কর্মকর্তার বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সালমান রুশদির ওপর হামলার পর বিশ্বজুড়ে লেখক এবং রাজনীতিবিদরা মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
নিউইয়র্ক পুলিশ বলেছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী একজন পুরুষ। তিনি মঞ্চে উঠে রুশদি ও তার সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর ওপর হামলা চালান। রুশদির ঘাড়ে ছুরি দিয়ে বেশ কয়েকটি আঘাত করা হয়েছে। পরে হামলাকারীকে ধরে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
হামলাকারী কী উদ্দেশ্যে সালমান রুশদির ওপর আক্রমণ করেছে তা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলে পাওয়া একটি ব্যাকপ্যাক এবং ইলেক্ট্রনিক্স পরীক্ষার জন্য সার্চ ওয়ারেন্ট পাওয়ার অপেক্ষা করছে তারা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সালমান রুশদির ঘাড়ে এবং পেটে অন্তত একবার করে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত বুকার পুরস্কারজয়ী ৭৫ বছর বয়সী লেখক রুশদি ১৯৮১ সালে তার লেখা বই ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। কিন্তু ১৯৮৮ সালে তার চতুর্থ বই ‘দ্য স্যাটানিক ভার্সেস’-এর জন্য তাকে ৯ বছর লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল।
‘স্যাটানিক ভার্সেস’ উপন্যাসে ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করা হয়েছে বলে মনে করেন মুসলিমরা। এই বইটি লেখার পর থেকেই বুকার পুরস্কারজয়ী সালমান রুশদিকে অসংখ্যবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বইটি ১৯৮৮ সালে ইরানে নিষিদ্ধ হয়। এর এক বছর পর ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি রুশদিকে হত্যার ফতোয়া দেন। তার মাথার মূল্য ৩০ লাখ ডলার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।