সপ্তাহের ব্যবধানে হিলিতে শুকনা মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকা

সরবরাহ কমের অজুহাতে সপ্তাহের ব্যবধানে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে আবারও শুকনা মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকা করে।

এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি দেশীয় শুকনা মরিচ ২৯০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ থাকায় আমদানি করা কারেন্ট মরিচের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪০ টাকা যা আগে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। হঠাৎ করে শুকনা মরিচের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন।

হিলি বাজারে শুকনা মরিচ কিনতে আসা মাইদুল ইসলাম বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম যে হারে বাড়তিছে তাতে করে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের মরণ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। রাত পোহালেই প্রতিটা পণ্যের দাম বাড়তি কমের কোনো নাম নেই।

‘কয়েক দিন আগে যে শুকনা মরিচ ২৯০টাকা ছিল তা এখন বেড়ে ৩৪০ টাকা হয়ে গেছে। যে ভাবে রাতারাতি পণ্যের দাম বাড়ছে সেভাবে আমাদের তো আয় বাড়ছে না। এখন আমরা না চাল কিনবো না মরিচসহ অন্যান্য তরিতরকারি কিনবো একটা কিনলে আর একটা হচ্ছে না এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে। বাধ্য হয়ে যেখানে আগে আড়াইশো গ্রাম কিনতাম এখন সেখানে ১শ গ্রাম কিনে কাজ চালাতে হচ্ছে।’

হিলি বাজারের শুকনা মরিচ বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, গত কয়েক দিন ধরেই সরবরাহ কমের কারণে শুকনা মরিচের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। এর কারণ হলো কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপদাহ বিরাজ করার কারণে কাচা মরিচের ফুল নষ্ট হয়ে এর আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঝে আবারও অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার কারণে কাচা মরিচের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এতে করে কৃষকেরা শুকনা মরিচ তেমন করতে না পারায় বাজারে এর সরবরাহ কমে গিয়েছে। সেই সঙ্গে কাচা মরিচের দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষেত থেকে কাঁচামরিচ তুলে বিক্রি করে দিচ্ছেন তারা আর মরিচ শুকাচ্ছেন না। এছাড়া তেলের দাম বাড়ায় আমাদের মরিচ নিয়ে আসার পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়েছে এর প্রভাব পড়ছে দামের উপরে।

হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, দেশীয় শুকনা মরিচের দাম কম থাকায় আমদানিতে পড়তা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে শুকনা মরিচ আমদানি বন্ধ ছিল। দেশের বাজারে শুকনা মরিচের দাম বাড়তি ও চাহিদা তৈরি হওয়ায় এক বছর বন্ধের পর ১৬ই মার্চ থেকে পুনরায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুকনা মরিচ আমদানি শুরু হয়। এরপর কিছুদিন ধরে নিয়মিত ভারত থেকে শুকনা মরিচ আমদানি হচ্ছিল বগুড়ার রুবেল এন্টারপ্রাইজ নামের এক আমদানিকারক এসব শুকনা মরিচ আমদানি করছিলেন।

এ সময় প্রতি টন শুকনা মরিচ ভারত থেকে ২হাজার ২শ মার্কিন ডলার মূল্যে ভারত থেকে আমদানি হচ্ছিল যা একই মূল্যে কাস্টমস শুল্কায়ন করে ২৯টাকা শুল্ক আদায় পূর্বক ছাড় দিচ্ছিল। কিন্তু বর্তমানে বন্দর দিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে শুকনা মরিচ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এর মূল কারণ হলো ভারতে শুকনা মরিচের দাম বেড়ে গেছে পূর্বে যেখানে প্রতি টন শুকনা মরিচ ২হাজার ২শ ডলার মূল্যে আমদানি করা হতো এখন সেখানে ২ হাজার ৮শ ডলার দাম উঠে গেছে। এ ছাড়া ভারতের অভ্যন্তরে এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্ব নিয়ে জটিলতার কারণে ভারতের অভ্যন্তরে শুকনা মরিচের ট্রাক দু থেকে তিন দিন ধরে আটকা পড়ে থাকছে। যার কারণে আগের মতো সঠিক সময়ে রপ্তানি হচ্ছে না শুকনা মরিচের ট্রাক। এসব কারণে এই পথ দিয়ে আমদানিতে লোকসানের মুখে পড়তে হওয়ায় আমদানিকারকরা হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুকনা মরিচ আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে শুকনা মরিচের আমদানি বেশ কিছুদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। তবে মাঝে মধ্যে এক ট্রাক করে শুকনা মরিচ আমদানি হয়ে থাকে। বন্দর দিয়ে সর্বশেষ গত ২৭ জুলাই ১টি ট্রাকে ২০ টন শুকনা মরিচ আমদানি হয়েছিল।

এর আগে গত ১লা জুন বন্দর দিয়ে ১টি ট্রাকে ২০ টন শুকনা মরিচ আমদানি হয়েছিল। এরপর থেকে বন্দর দিয়ে শুকনা মরিচ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে করে সরকারের রাজস্ব আহরণ যেমন কমেছে তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয় কমেছে।