পদ্মা সেতু চালুর পর বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলপথ ব্যবহার করে ভারতে যাতায়াতকারী যাত্রীর চাপ বেড়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল দিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫-৬ হাজার যাত্রী বাংলাদেশ-ভারত যাতায়াত করছেন। এমন পরিস্থিতিতে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়িয়ে যাত্রীদের নির্বিঘেœ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। সেখানকার ইমিগ্রেশনে ১৪টি বুথ থাকলেও যাত্রীদের পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতার জন্য রয়েছেন মাত্র ৩ জন কর্মকর্তা। যে কারণে যাত্রীদের লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় ৫/৬ ঘণ্টা করে।
ভুক্তভোগী একাধিক যাত্রী জানান, ভারতীয় ইমিগ্রেশনে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন যাত্রীরা। খোলা আকাশের নিচে যাত্রীদের লম্বা লাইনে ৫/৬ ঘণ্টা করে থাকতে হচ্ছে দাঁড়িয়ে। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ, শিশু ও রোগীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। দীর্ঘ সময় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। নোমান্সল্যান্ড (সীমান্তের শূন্যরেখা) এলাকায় যাত্রীদের বসার জন্য নেই কোনো ছাউনি।
এমনই এক ভুক্তভোগী যাত্রী কামাল হোসেন। তিনি গতকাল শনিবার পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরেন। সেখানে ভোগান্তির শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভারতীয় ইমিগ্রেশনে ১৪টি বুথ থাকলেও মাত্র ২-৩ জন কর্মকর্তাকে সামাল দিতে হয় ৫/৬ হাজার যাত্রীর পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা। ইমিগ্রেশনের ধীরগতির কারণে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। ফলে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় ৫/৬ ঘণ্টা করে। তার ওপর রয়েছে যাত্রী তল্লাশির নামে বিএসএফের হয়রানি।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বহির্গমনে ১৬টি ও আগমন বুথে ১২টি ডেস্ক বসানো হয়েছে। ফলে খুব কম সময়ে পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট হয়ে গতকাল ভারত থেকে দেশে ফেরেন ঢাকার মতিয়ার রহমান মতিন। তিনি বলেন, ‘ভারতের ইমিগ্রেশনে সকাল ৮টায় এসে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বাংলাদেশে আসতে বিকেল ৩টা বেজে গেছে। দীর্ঘ এই সময় লাইনে রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে খুব কষ্ট হয়েছে। কোথাও খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে ১৪টি ডেস্কে মাত্র ৩ কর্মকর্তা কাজ করছেন। ১৪টি ডেস্কে ১৪ জন অফিসার কাজ করলে কম সময়ে দেশে ফিরে আসতে পারতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো যাত্রী প্রতিবাদ করলে তার পাসপোর্ট পাশে সরিয়ে রেখে আরও বেশি বিলম্ব করার মতো শাস্তিও দেওয়া হচ্ছে। তাদের জনবল কম ও কাজে ধীরগতির কারণে যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করাসহ নানামুখী হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’
পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানির বিষয়টি ভারতীয় দূতাবাসকে অবগত করা হয়েছে বলে জানান ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মতিয়ার রহমান।
বেনাপোল ইমগ্রেশনের ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, সর্বশেষ গত শুক্রবার বেনাপোল দিয়ে ৫০৭৯ জন যাত্রী পারাপার হয়েছেন। এরমধ্যে ভারত থেকে ফিরেছেন ২ হাজার ৫১৬ জন ও ভারতে গেছেন ২ হাজার ৫৬৩ জন।
পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বেনাপোল কাস্টম হাউজের যুগ্ম কমিশনার আব্দুর রশিদ মিয়া বলেন, ‘পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানির বিষয়টি ওপারের বিষয়। তবে আমাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বহিরাগত দালাল ও লেবার-মুক্ত করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য ট্রলির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যাত্রী ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’