গার্ডার চাপায় ৫ মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলছেন স্বজন

রাজধানীর উত্তরায় গার্ডারের নিচে চাপা পড়া প্রাইভেটকারের পাঁচ যাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এক স্বজন। জাহিদ হাসান নামে ওই ব্যক্তি দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটির পেছনের গাড়িতে ছিলেন। ঘটনার পরপরই তিনি গার্ডারের নিচে পড়ে থাকা প্রাইভেট কারটির সামনে গিয়েছিলেন।

সোমবার ঢাকার দক্ষিণখানের কাওলা এলাকায় বউভাতের অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতি ও তাদের স্বজনেরা প্রাইভেটকারে করে আশুলিয়ায় যাচ্ছিলেন। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের প্যারাডাইস টাওয়ারের সামনের সড়কে চলন্ত অবস্থায় প্রাইভেট কারটির ওপর বিআরটি প্রকল্পের গার্ডার পড়ে।

ঘটনার পরপর নবদম্পতি হৃদয় (২৬) ও রিয়া মনিকে (২১) প্রাইভেট কার থেকে বের করে আনা হয়। তারা উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। দুজনই শঙ্কামুক্ত। তবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে প্রাইভেটকারের ওপর থেকে গার্ডারটি সরিয়ে গাড়িটির মধ্য থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন, বর হৃদয়ের বাবা মো. রুবেল মিয়া (৬০), নববধূ রিয়ার মা মোছা. ফাহিমা (৩৭), ফাহিমার বোন ঝরনা (২৬) এবং তাঁর দুই সন্তান জান্নাতুল (৬) ও মো. জাকারিয়া (৪)। রুবেল মিয়া গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী জাহিদ হাসান নববধূ রিয়ার মামা।

তিনি বলেন, ‘এটি হত্যাকাণ্ড। গার্ডার নিয়ে ক্রেনটি কাত হয়ে ছিল। রাস্তা খোলা ছিল। আমি ছিলাম পেছনের গাড়িতে। চলন্ত গাড়ির ওপর গার্ডারটি পড়েছে। রাস্তায় কোনো ব্যারিকেড ছিল না।’

দুর্ঘটনার পর হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাউকে পাশে পাননি বলে হতাশা জানান জাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর এসে দেখি, আমার ভাগ্নে ও বোন জীবিত। শ্বাস চলছে। বর হৃদয়ের বাবা রুবেলের হাত কাঁপছে। সময়মতো উদ্ধার করা গেলে তাঁরা বেঁচে যেতেন।’

ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা চালাতে অনেক সময় নিতে হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এলেও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করতে পারেননি। সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর গার্ডারটি সরিয়ে প্রাইভেট কার থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী জানান।

তিনি বলেন, এ ঘটনা কেন ঘটেছে, কারা দায়ী, সেটি কমিটি খুঁজে বের করবে। মঙ্গলবার সকালের মধ্যেই প্রতিবেদন পাওয়া যাবে।