স্বাধীনতা দিবসে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করে চিঠি লিখেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। কিমও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির আশা প্রকাশ করে চিঠি লিখেছেন পুতিনকে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশই অসংখ্য নিষেধাজ্ঞার মুখে আছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যক্ষেত্রে জড়িত হওয়ায় দুই দেশই একই অবস্থায়। তাই দুই দেশেরই বিশ্বাস তাদের একে অন্যকে প্রয়োজন এবং একে অন্যকে কিছু দেওয়ার বিষয় তাদের আছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলের হাঙকুক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী প্রফেসর ও উত্তর কোরিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাসোন রিচের বরাতে বলেছে, সম্পর্ক উন্নয়ন করলে রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া দুই দেশই পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে এক সঙ্গী পাবে।
মাসোন রিচ বলেন, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়া দুই দেশই অসংখ্য নিষেধাজ্ঞার মুখে আছে। উত্তর কোরিয়া লম্বা সময় ধরে নিষেধাজ্ঞার অধীনে আছে। তাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যক্ষেত্রে জড়িত হতে দুই দেশই আবদ্ধ।
এ বিশেষজ্ঞ বলেন, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় তাদের শ্রমিকদের পাঠাতে পারবে, বিশেষ করে পূর্বদিকের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। তাছাড়া রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার জন্য আমদানি/রপ্তানির বাজার হবে বা এর চেয়েও বেশি হবে যদি তারা বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করে। শুধু অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও বিদেশি মুদ্রার জন্য উত্তর কোরিয়ার জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হবে তাই নয়, এর মাধ্যমে চীনের ওপর থেকে নিজেদের অত্যধিক নির্ভরতাও কমাতে পারবে উত্তর কোরিয়া।
অন্যদিকে রাশিয়া যদি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কোন্নয়ন করে তাহলে রাশিয়া তাদের পূর্বদিকের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করার জন্য শ্রমিক পাবে। তাছাড়া উত্তর কোরিয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আমদানি-রপ্তানির বাজার হতে পারবে।
গতকাল উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন তার চিঠিতে কিম জং-উনকে বলেছেন, দুই দেশ যৌথ প্রচেষ্টায় ব্যাপকভিত্তিক ও গঠনমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রসার ঘটাবে। তিনি বলেন, দুই দেশের স্বার্থেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রয়োজন। এ সম্পর্ক কোরিয়া উপদ্বীপ এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক হবে।
ওদিকে পুতিনকে লেখা চিঠিতে কিম জং উন বলেন, দুই দেশের মধ্যে ‘কৌশলগত ও পরিকল্পিত সহযোগিতা, সমর্থন ও সংহতি’ নতুন স্তরে পৌঁছেছে, যা বৈরী সামরিক শক্তির হুমকি ও উসকানিকে ব্যর্থ করে দিতে উভয় দেশের যৌথ প্রচেষ্টার অংশ।
কিম তার চিঠিতে পুতিনের সঙ্গে ২০১৯ সালে সাক্ষাতের সময় সই হওয়া চুক্তির ভিত্তিতে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।