ভিজিডির তালিকা থেকে নাম কাটার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

দিনাজপুর সদর উপজেলার আস্করপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৩ শতাধিক দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ভিজিডি) কার্ড বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ভুক্তভোগীরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল ও ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করেছেন। পরে স্থানীয়দের অনুরোধে তারা অবরোধ তুলে নেন।

দিনাজপুর সদর উপজেলার বোর্ডের হাটে অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদের সামনের সড়কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সড়ক অবরোধ করেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউপি নির্বাচনে নৌকা মার্কার পক্ষ নেওয়ায় বেছে বেছে ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দীক তাদের নাম সরকারের এই কর্মসূচির তালিকা থেকে বাতিল করছেন। সেই স্থানে যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে তারা তেমন অসহায় ও দুস্থ নন। ইউপি চেয়ারম্যানের রোষানলে পড়ে তাদের বঞ্চিত হতে হচ্ছে। তারা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলদের কার্ড করে দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ১৮০ জনের সই করা একটি অভিযোগপত্র দেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিএনপিপন্থি চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দীক সরকারিভাবে জারিকৃত পরিপত্রের দিকনির্দেশনা অমান্য করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডধারীদের নাম ঢালাওভাবে পরিবর্তন করে শুধু বিএনপিপন্থিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করছেন।

ভুক্তভোগী দুখু মনি বালা, আশরাফ আলী, রওশন আরা, দুলাল হোসেন অভিযোগ করেন, এর আগের ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান আমাদের ভিজিডির কার্ড করে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে আমরা নিয়মিত ভিজিডির কার্ড দিয়ে চাল পেতাম। কিন্তু কিছুদিন আগে ইউনিয়ন পরিষদে যখন ভিজিডির কার্ড দিয়ে চাল নিতে যাব, তখন মেম্বার বলে আমাদের নাম কার্ড থেকে কাটা হয়েছে। চেয়ারম্যান নাকি আমাদেরসহ ৩ শতাধিক উপকারভোগীর নাম কেটে দিয়েছেন।

ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লাভলী খাতুন বলেন, আগে এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি দেখে কার্ড দেওয়া হচ্ছিল না। কিন্তু এখন বেছে বেছে বিএনপির লোকদের কার্ড দেওয়া হচ্ছে। আর অন্য লোকদের কার্ডের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর ছিদ্দীক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কারও নাম কাটিনি। উপজেলায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে তার ওপর মিটিং দিয়েছি। আমি কাটিনি, মেম্বাররা কার্ড কেটেছে। আমি তো একটা নামও কাটিনি, কোনো মেম্বারও বলতে পারবে না। আমি কাউকে নাম কাটতেও বলিনি। উপজেলা পরিষদে তারা অভিযোগ করেছে, তদন্ত এলেই সব বেরিয়ে যাবে। এখানে উপকারভোগী ১৭৫৪ জন, তবে কতগুলো কাটা হয়েছে তা আমি বলতে পারব না। মেম্বাররা বলতে পারবেন।