নিউ ইয়র্কের মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে ছুরিকাহত বুকারজয়ী লেখক সালমান রুশদি বেঁচে আছেন শুনে অবাক হয়েছিলেন তার উপর হামলাকারী হাদি মাতার। নিউইয়র্ক পোস্টে দেওয়া হাদির এক সাক্ষাৎকার বুধবার প্রকাশিত হয়েছে।
‘আমি যখন শুনেছিলাম যে তিনি জীবিত আছেন আমি অবাক হয়েছি।’ ২৪ বছর বয়সী অভিযুক্ত হাদি মাতার ট্যাবলয়েড বলছিলেন।
কারাগারে আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তির একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার নিয়েছে ট্যাবলয়েডটি।
সন্দেহভাজন এই হামলাকারী হত্যাচেষ্টার ঘটনায় দোষ স্বীকার করেননি।
তিনি এ্টাও বলেননি যে, তিনি ১৯৮৯ সালে রুশদির বিরুদ্ধে জারি করা ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা রুহুল্লা খোমেনির 'ফতোয়া' দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এই হামলা চালিয়েছেন।
'দ্য স্যাটানিক ভার্সেস' বই লেখার কারণে রুশদিকে হত্যার জন্য মুসলিমদের হত্যার আদেশ দিয়েছিলেন খোমেনি।
‘আমি আয়াতোল্লাকে শ্রদ্ধা করি। আমি মনে করি তিনি মহান ব্যক্তি। আমি এই সম্পর্কে এতটুকুই বলতে পারবো।’ বলছিলেন হাদি।
তার আইনজীবী তাকে এ বিষয়ে আলোচনা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।’ জানিয়েছে নিউইয়র্ক পোস্ট।
হাদি সংবাদপত্রকে বলেছিলেন যে তিনি রুশদির উপন্যাসের কয়েকটি পাতা পড়েছেন।
‘আমি এই লোককে পছন্দ করি না। আমি মনে করি না যে তিনি খুব একটা ভালো লোক।’ লেখক সম্পর্কে বলছিলেন হাদি।
‘তিনি ইসলামের উপর আক্রমণকারীদের একজন। তিনি তাদের বিশ্বাস এবং বিশ্বাস ব্যবস্থার উপর আক্রমণ করেছেন।’
হাদি মাতার বলছিলেন, তিনি ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তিনি এ বছরের শুরুতে টুইটারের মাধ্যমে জেনেছেন যে- রুশদি চৌতাকুয়া ইনস্টিটিউশনের সাহিত্য সিরিজে বক্তব্য রাখবেন।
তিনি নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছেন যে, তিনি হামলার আগেরদিন বাসে করে বাফেলোতে এসেছিলেন।
গত শুক্রবার মঞ্চে উঠে রুশদি ও তার সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর ওপর হামলা চালান অভিযুক্ত হাদি মাতার। রুশদির ঘাড়ে ছুরি দিয়ে বেশ কয়েকটি আঘাত করা হয়েছে। পরে হামলাকারীকে ধরে হেফাজতে নেয় পুলিশ।