বন্ধুত্বে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কী

অঁতোয়ান দ্য স্যাঁৎ একজ্যুপেরির ‘ছোট্ট রাজপুত্র’ বইটি প্রায় তিনশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে, নির্বাচিত হয়েছে বিশ শতকের সেরা ফ্রেঞ্চ বই হিসেবে। বইটির মোট বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১৪০ মিলিয়ন কপি এবং প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে। কী আছে এই বইটিতে? এই বইয়ে লেখক লিখেছেন তার এক ছোট্ট বন্ধুর কথা। ভিনগ্রহের এই ছোট্ট বন্ধুটির সঙ্গে তার দেখা হয় আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে। বৈমানিক লেখকের বিমান মাঝ আকাশে নষ্ট হয়ে গেলে তড়িঘড়ি করে তাকে মরুভূমিতে অবতরণ করতে হয়। তিনি যখন বিমান ঠিক করার চেষ্টা করছিলেন ভিনগ্রহের এই রাজপুত্র তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘একটি ভেড়া এঁকে দেবে?’ আঁকা দিয়ে তাদের পরিচয়, ধীরে ধীরে আলোচনা এগোয়, পরিচয় পরিণত হয় বন্ধুত্বে। ছোট্ট রাজপুত্র তার এই বন্ধুটিকে জানায় তার পৃথিবীতে আগমনের নেপথ্য কাহিনী।

ছোট্ট রাজপুত্র বাস করত একটি ছোট্ট উপগ্রহে। পৃথিবীর মানুষ দূরের এই গ্রহাণুকে ‘উপগ্রহ খ-৬১২’ নামে চেনে। সে গ্রহাণুতে আছে তিনটি আগ্নেয়গিরি (দুটি জীবন্ত, একটি মৃত), একটি সুন্দর এক বাগান আর বাগানে ছিল একটি ছোট্ট সুন্দর গোলাপ। ছোট্ট রাজপুত্র ভালো বাসতো তাকে। রাজপুত্রের ভালোবাসার এই গোলাপটি ছোট হলেও ছিল অতিমাত্রায় গর্বিত এবং অহংকারী। তার তীব্র কথার পরিপ্রেক্ষিতেই ছোট্ট রাজপুত্র ছেড়ে আসে তার প্রিয় গ্রহ।

পৃথিবীতে আসার পথে ছোট্ট রাজপুত্র ভ্রমণ করেছে আরও গ্রহ-উপগ্রহ-নক্ষত্র। ছয় ছয়টি গ্রহ পার হয়ে এসেছে সে পৃথিবীতে। পৃথিবীতে প্রথম তার সঙ্গে দেখা হয় সাপের সঙ্গে। সাপ তাকে জানায় সে যদি নিজগ্রহে ফেরত যেতে চায় তাহলে সে সাহায্য করতে পারে। এরপর রাজপুত্রের সঙ্গে দেখা হয় ফুলের, কিন্তু ফুলটি রুগ্ণ, মাত্র তিনটি পাপড়ি, মোটেও তার গোলাপের মতো নয়। ফুলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এগোলে দেখা হয় শেয়ালের সঙ্গে। শেয়াল তাকে জানায় পৃথিবীতে তার জীবনটা একঘেয়েমিতে ভরা। কারণ কেউ তাকে পোষ মানায়নি। রাজপুত্রের জবাবে শেয়াল জানায় পোষ মানালে তার এই একঘেয়েমি কেটে যাবে। তখন গমের মাঠের দিকে তাকালে তার মনে পড়বে রাজপুত্রের কথা। শেয়ালের কথা শুনে রাজপুত্রে মনে পড়ে তার গোলাপের কথা, তাকে সে পোষ মানিয়েছিল। আর যে পোষ মানায় তার ওপর বর্তায় সমস্ত ভার। আর সে কি না গোলাপকে ফেলে রেখে এসেছে যার নিজেকে রক্ষা করার জন্য রয়েছে মাত্র চারটি কাঁটা! রাজপুত্র ঠিক করে সে নিজের গ্রহে ফিরে যাবে। সাপ তাকে নিজগ্রহে ফিরে যেতে সাহায্য করে। কিন্তু বৈমানিক তার ছোট্ট বন্ধুকে ভুলতে পারে না। তাই তার কথা লিখে রাখে।

ছোট্ট রাজপুত্র বইটিতে রয়েছে মানবিক সম্পর্ক তৈরি এবং তা লালন করার সূত্র। জীবনে কোনটি গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটি এড়িয়ে যাওয়ার তা মনরোমভাবে তুলে ধরেছেন লেখক। বর্ণনার জাদুময়তা বারবার পড়তে বাধ্য করে। ভিনগ্রহের রাজপুত্রের অনন্য জীবনবোধ আলোড়িত করে সবাইকে।

ভিনগ্রহের রাজপুত্র আর বৈমানিকের বন্ধুত্বের এই গাথা আলোড়িত করবে তোমাকেও আর তুমি বুঝতে পারবে বন্ধুত্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কী।