চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের গামারীতলা গ্রামে কনটেইনার ডিপো নির্মাণ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে গ্রামবাসী ও ডিপোর মালিক। সীতাকুন্ডের বিএম ডিপোতে অগ্নিকান্ডের ঘটনার পর গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ডিপো নির্মাণের বিরোধিতা করে তারা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন। অন্যদিকে ১৭ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন ডিপোর মালিক নুরুল আলম চৌধুরী। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ও থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন। এ অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গামারীতলা গ্রামের ভেতর আলহাজ মোস্তফা হাকিম প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গামারীতলা জামে মসজিদ লাগোয়া ২ একর ৬২ শতক জায়গায় কনটেইনার ডিপো স্থাপনের উদ্যোগ নেন নুরুল আলম চৌধুরী নামের এক প্রভাবশালী। এর প্রতিবাদে ১১ আগস্ট গ্রামবাসী স্মারকলিপি দেয়। এ ছাড়া পরদিন শত শত শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন হয়। অন্যদিকে ডিপোর মালিক নুরুল আলম চৌধুরী গত বৃহস্পতিবার ১৭ জনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গেলে ছাত্রছাত্রীসহ এলাকার অসংখ্য মানুষ জড়ো হয়ে এই প্রতিবেদকের কাছে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় মোস্তফা হাকিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহরম আলী বলেন, ‘ডিপোর সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কারণে বিদ্যালয়ের কক্ষগুলোতে আলো-বাতাস প্রবেশ একদম বন্ধ হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে শ্রেণিকক্ষে বসা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। অনেক অভিভাবক বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে আসতে দিচ্ছেন না।’
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এখানে ডিপো নির্মাণ হলে তিনটি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের মারাত্মক অসুবিধা হবে। ডিপো নির্মাণের বিরোধিতা করায় এলাকাবাসীর নামে চাঁদা চাওয়ার মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’
সোনাইছড়ি মসজিদ কমিটির সভাপতি দিদারুল আলম বলেন, ‘আমাদের গ্রাম অনেক শান্ত। এখানে বেশির ভাগ মানুষ শিক্ষিত ও সমাজের ভালো ভালো জায়গায় রয়েছেন। চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। ইতিমধ্যে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এখানে ডিপো নির্মাণের সুবিধা যেমন আছে, তেমনি অসুবিধাও আছে। সব দিক মাথায় রেখে বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’